নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ঐতিহ্যবাহী জবাই বিল এখন অজস্র অতিথি পাখির কিচির মিচির হাঁক-ডাক আর কলতানে মুখরিত হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে এমনই হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে ঐতিহ্যবাহী এই বিল ছাড়াও পাশের পুর্ণভবা নদীতে।
নওগাঁ জেলার সীমান্তবর্তী সাপাহার উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে শিরন্টি, গোয়ালা, আইহাই ও পাতাড়ী এই ৪ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জবাই বিল এখন অতিথি পাখিদের নিরাপদ বিচরণভুমিতে পরিণত হয়েছে। চলতি বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশী পাখি এসেছে। এই বিল ও নদীতে অতিথি পাখির জন্য পর্যাপ্ত খাবার থাকায় প্রতি বছর শীতের সময় ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির আগমন হয়। এখানে শামুকখোল, বক, কক, বালিহাঁস, চাহা, রাজহাঁস, পাতি সরালী সহ নানা প্রজাতির পাখি আসে। তাদের কিচিরমিচির শব্দে সব সময় মুখরিত থাকে গোটা বিল। বিলের ছোট ছোট মাছ আর শামুকই মূলত এসব পাখির প্রধান খাদ্য। সমপ্রতি এই বিলে অবাধে অতিথি পাখি শিকারের সংবাদ জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কল্যাণ চৌধুরী বিলের অতিথি পাখি শিকার প্রতিরোধে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কয়েক দিনের মধ্যে অসাধু শিকারীরা ভয়ে গা ঢাকা দেয়। একই সাথে জবাই বিল জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ কমিটির সদস্যগণ ও জবাই বিল মত্স্য চাষ উন্নয়ন সমিতিকে পাখি শিকার প্রতিরোধে প্রশংসনীয় ভুমিকা দেখা গেছেন।
আরো পড়ুন : গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট গ্রহণ শুরু
জবাই বিল জীব বৈচিত্র সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি সোহানুর রহমান সবুজ জানান, তাদের সংগঠনের সদস্যরা সেচ্ছায় বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে দিন রাত জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে পথসভা ও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে আসছে। তার মতে ইতোপুর্বে বিলে এত অতিথি পাখির আগমণ দেখা যায়নি। প্রতি দিন শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে সকাল- সন্ধ্যা বিভিন্ন এলাকা থেকে পাখি প্রেমি নারী পুরুষ দর্শনার্থীর আগমন ঘটছে।
ইত্তেফাক/ইউবি

