রংপুরের পীরগাছায় ভাতিজিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় চাচাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এনজিও কর্মীর যৌন হয়রানির অভিযোগে যুবকের ছয় মাসের কারাদণ্ড ও মানিকগঞ্জের সিংগাইরে স্বামীর সামনে স্ত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় সালিশে ক্ষমা চেয়েছেন এক যুবলীগ নেতা।
পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, ভাতিজিকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় পীরগাছায় মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ঐ এলাকার ভোলা মিয়ার ছেলে বখাটে নুর আলমকে আটক করেছে পুলিশ। জানা গেছে, মিজানুর রহমানের ভাতিজি ও স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ঐ ছাত্রীকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতো নুর আলম। বিষয়টি ঐ ছাত্রী পরিবারের সদস্যদের জানালে মিজানুর রহমান নুর আলমকে বারণ করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সাহেববাজার এলাকায় নুর আলম ও তার সহযোগীরা মিজানুর রহমানকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, গোদাগাড়ীতে এনজিও নারী কর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে আবদুল হাই (৪০) নামের এক যুবককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার সকালে উপজেলার বিজয়নগর এলাকায় ঐ এনজিও কর্মীর (২৫) গতিরোধ করে যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা আবদুুল হাইকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করে। এরপর আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানে আলম আবদুল হাইকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল হাই উপজেলার বিজয়নগরের মৃত দাউদ হোসেনের ছেলে।
এদিকে সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে রাস্তায় স্ত্রীকে শ্লীলতাহানি করায় গ্রাম্য সালিশে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন এক যুবলীগ নেতা। গতকাল রবিবার ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে এ সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ছানোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে তার ভাতিজি স্বামীকে নিয়ে বেড়াতে যায়। এসময় ফোর্ডনগর নুরানী সমবায় সমিতির কাঠবাগানের সামনে যাওয়া মাত্র এ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি মৃত লুত্ফর খানের ছেলে যুবলীগ নেতা মানিক খান তার ভাতিজির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। ভাতিজি ও তার স্বামী এর প্রতিবাদ করলে মানিক তার স্বামীকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারে। স্বামীকে উদ্ধার করতে এলে ভাতিজিকেও মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি জানার পর তার স্বজনেরা মানিককে মারধর করে। মানিক পরবর্তীকালে ৮/১০ সন্ত্রাসী নিয়ে তার ভাতিজার মুদি দোকানে হামলা চালায় এবং তাকে ছুরিকাঘাত করে। এসময় তার দুই মেয়েকেও মারধর করে মানিকগং।
