>> নাসরুল্লাহ শাকুরি
শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি মনে হলে কার না ভালো লাগে? সবারই ভালো লাগে। এতটাই ভালো লাগে যে জীবনের পড়ন্ত লগ্নেও ইচ্ছে হয় সেই অশান্ত শৈশবে কিংবা দূরন্ত কৈশোরে ফেলে আসা রঙিন দিনে ফিরে যেতে। তবে কারো কারো কাছে সেই শৈশব- কৈশোর এক বিভীষিকার নাম। যার কথা মনে হলে গা শিউরে ওঠে বারংবার! রূপান্তরিত নারী (ট্রান্সজেন্ডার) তাসনুভা আনান শিশির তাদেরই একজন।
৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের ইতিহাসে প্রথম রূপান্তরিত নারী (ট্রান্সজেন্ডার) হিসেবে বৈশাখী টেলিভিশনে সংবাদ উপস্থাপনা করেন তাসনুভা আনান শিশির। এরপরই তিনি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন। ছেলেবেলার স্মৃতিচারণ করে তাসনুভা বলেন, ‘আমার শৈশব, কৈশোর ছিল অপমানের, বুলিংয়ের। পদে পদে ট্রলের শিকার হয়েছি। দিনরাত গালিগালাজ শুনেছি। আর এটা শুরু হয়েছিল আমার পাঁচ-ছয় বছর বয়স থেকেই।’ তাসনুভা আক্ষেপ করে বলেন, ‘মানুষ জীবনে ভালো বন্ধু পায়, আর আমি পেয়েছি গালি। হিজড়া, ছক্কা, হাফ লেডিস— এরকম নানাবিধ গালি আমার শৈশব-কৈশোরের নিত্যসঙ্গী ছিল।’
কখনো এমনও হতো যে ট্রলের কারণে নিজের নামটাই ভুলে যেতেন তাসনুভা! এই বিভীষিকাময় স্মৃতিই তাসনুভাকে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি যুগিয়েছে। পারিপার্শ্বিক নানা বাস্তবতার কারণে একসময় পরিবার ছাড়তে হয় তাকে। তবে মনোবল হারাননি কখনোই। সেই মনোবলকে পুঁজি করে অপমান, লাঞ্ছনা আর শোককে শক্তিতে পরিণত করেছেন রূপান্তরিত এই নারী। পড়াশোনার খরচ যোগাতে তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম চাকরি করতে হয়েছে। চাকরি করতে গিয়েও তাকে মুখোমুখি হতে হয়েছে বৈষম্যের। মোকাবিলা করতে হয়েছে নানা প্রতিকূলতার। তবু দমে যাননি তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি অংশ নিয়েছেন নানা রকম সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে।
বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথে অধ্যয়ন করছেন তাসনুভা আনান শিশির। স্বপ্ন দেখেন তার মতো ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির অন্য সদস্যদের ভাগ্য উন্নয়নের। অন্য সবার মতো রূপান্তরিত মানুষদের (ট্রান্সজেন্ডার) জন্য একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করাই এখন তাসনুভার স্বপ্ন।
