মশাল জ্বলল, শুরু হলো পদক লড়াই

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২১, ২১:১৭

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম যেন বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়ে হাজির। স্টেডিয়ামে ঢুকে চোখ ছানাবড়া। চারদিকে সাজানো গোছানো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। জাতীয় পতাকার রঙের সঙ্গে মিল রেখে শত শত লাল-সবুজ বাতির সমারোহ মনটাকে রাঙিয়ে দেবে যে কাউকে। দেখে মনে হতে পারে আন্তর্জাতিক গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এত বড় আয়োজন, এই  করোনার মধ্যে সফল করাটা চ্যালেঞ্জ ছিল। কঠিন হলেও সেটি বেশ ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

নবম বাংলাদেশ গেমস। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তীতে এই আয়োজন পুরোটাই দেশের ক্রীড়াবিদদের নিয়ে। জায়ান্ট স্ক্রিনগুলোতে ভেসে উঠেছে দেশের অতীত ক্রীড়াঙ্গন। সাফল্য তুলে আনার গল্প। দেশে কিংবা বিদেশের মাটিতে বাংলার ক্রীড়াবিদদের জয়ের গল্পগুলো মালা গেঁথে তুলে ধরা হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। বরাবরের মতো দেশের গানের সঙ্গে নৃত্যানুষ্ঠান, সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশনা ছিল। তরুণদের পারফরম্যান্স উজ্জীবিত করেছে। করোনার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মানতে গিয়ে সাধারণ দর্শক প্রবেশে কড়াকাড়ি থাকায় শুধু আমন্ত্রিতদের উপস্থিতি ছিল।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে মাঠের মাঝখানে বিশাল মঞ্চ। চারদিক থেকে ঘিরে ছিল আলোকসজ্জা। টিভি ক্যামেরা। পারফরমারদের উপস্থিতি বাড়তি প্রেরণা দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি এই গেমসের উদ্বোধন করেন। গেমস আয়োজক বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহেমদ, বিওএর মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। দেশের আট বিভাগ হতে ক্রীড়াবিদরা এসেছেন, সঙ্গে সার্ভিসেস দলের খেলোয়াড়দের পদচারণায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ ভরে উঠেছিল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খেলোয়াড়ি জীবনের কথা তুলে ধরা হয়। ১৫ মিনিটের বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ প্রদর্শনী নিয়ে গেছে অতীতে, বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের নানা অনুষঙ্গ গেমসের ক্রীড়াবিদদের নানাভাবে প্রেরণা দিয়েছে। খেলোয়াড়রা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে না দেখা অনেক চিত্র দেখে অবাক হয়েছেন এবং সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহণের শপথ নিয়েছেন।

গেমসে আতশবাজি থাকবে না, কী করে হয়। পুরো স্টেডিয়াম অন্ধকার করে দিয়ে আতশবাজির স্ফুরণ দেখে ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ছবি তোলার হিড়িক পড়ল। তার আগে লেজার শো এবং পাইরো প্রদর্শনী ছিল বিশেষ আকর্ষণ।

 অলিম্পিক গেমসে ক্রীড়াবিদদের শপথ করান টোকিও অলিম্পিক গেমসে কোয়ালিফাই করে সুযোগ পাওয়া আরচার রোমান সানা, বিচারকদের শপথ করান সাবেক তারকা জুডোকা কামরুন নাহার হিরু। মশাল প্রজ্বালন করেন ২০১৬ রিও অলিম্পিক গেমসে সরাসরি খেলার সুযোগ পাওয়া গলফার সিদ্দিকুর রহমান এবং ২০১৬ সালে এসএস গেমস সাঁতারে দুটি স্বর্ণজয়ী মাহফুজা খাতুন শিলা। আগের দিন টুঙ্গিপাড়া হতে ২০ ক্রীড়াবিদ মশাল বহন করে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এই মশাল চলবে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। দেশের সাত বিভাগেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গেমসের একাধিক খেলা। ৩১টি খেলায় লড়াই হচ্ছে। এরই মধ্যে নারী ক্রিকেট হয়ে গেছে। বাকি ৩০টি খেলা লড়াইয়ে মেতে উঠবে। গেমস উদ্বোধন হয়ে গেছে। এখন খেলার লড়াই। পদক লড়াই। ক্রীড়াবিদদের মধ্যে পদকের এই লড়াই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন নতুন ক্রীড়াবিদের সন্ধান দেবে—এমন প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।