পরীক্ষাকেন্দ্রের নোংরামি

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২১:৫৭

মহসিন খোন্দকার

 

আগে শুনতাম, বিশ্বাস হতো না—পরীক্ষার্থীরা নকল করে না, নকল করেন শিক্ষকরা। এ বছর পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে সচক্ষে অনেক নোংরামি দেখে আমার ধারণা পাল্টে গেল। একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রচ্ছন্ন দুর্নীতি দেখে আমি বিস্মিত হইনি, বিস্মিত হয়েছি পরীক্ষাকেন্দ্রে কিছু শিক্ষকের নকল ও দুর্নীতির ব্যাপারে আগ্রহ দেখে, তাদের মন-মানসিকতা দেখে।

দেখলাম, পরীক্ষাকেন্দ্রে যেসব দুর্নীতি হচ্ছে তার জন্যে দায়ী একশ্রেণির শিক্ষক, একটি নিদিষ্ট চক্র। চক্রটি নানাভাবে প্রভাবিত হয়ে পছন্দের কক্ষ-পরিদর্শককে দায়িত্ব দেন পছন্দের কক্ষে। অভিভাবকরা আগেই যোগাযোগ করেন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে, তাঁদের পছন্দমতো কক্ষ-পরিদর্শককে (শিক্ষক) তাঁদের সন্তানদের কক্ষে দেওয়ার জন্য। এভাবে ইংরেজি পরীক্ষার দিন ইংরেজি শিক্ষক, গণিত পরীক্ষার দিন গণিত শিক্ষক, অভিভাবকের ইচ্ছেমতো দায়িত্ব দিয়ে, পরামর্শ দেন অমুক-তমুক পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকেন্দ্রে সহযোগিতা করার জন্য। এসব হলো অনেকটা পূর্ব প্রস্ততি। এসবের পর পরীক্ষা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দু’তিন জন শিক্ষক বসে যান প্রশ্নোত্তর তৈরি করতে। প্রশ্নোত্তর তৈরি শেষ হলে এসব নিয়ে কক্ষে কক্ষে নিজ নিজ পরীক্ষার্থীদের পৌঁছে দেওয়া হয়। বিশেষ করে  নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নোত্তরের সবই দেওয়া হয় বাইরে থেকে। যেসব অভিভাবক কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে খুশি করতে পারেন, তাঁরাই শুধু এসব সুবিধা পান, অন্যেরা পান না। এসবের পর আছে কেন্দ্রের আশেপাশে স্থানীয় ছেলেপেলের উপদ্রব। বিশেষ করে কিছু উঠতি তরুণ ইন্টারনেট সার্চ দিয়ে প্রশ্নোত্তর তৈরি করে পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রাচীর টপকে নকল দিয়ে আসে নিদির্ষ্ট পরীক্ষার্থীকে। দু-চারজন পুলিশের পক্ষে এক-দেড় শ তরুণকে মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। আরো দেখা যায়, যেসব শিক্ষকের পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব নেই, তাঁরাও অবাধে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ নিজ পরীক্ষার্থীকে যতোটা পারছেন সহযোগিতা করছেন। এতে করে সেসব পরীক্ষার্থী নকলের সুযোগ পাচ্ছে না তারা হতাশ হচ্ছে, এই বৈষম্যের কারণে আনেক পরীক্ষার্থী মন খারাপ করছে। সব দেখে মনে হচ্ছে এ যেন এক মহাউত্সব।

এসব নকল ও দুর্নীতির ব্যাপারে কিছু শিক্ষকের সঙ্গে আলাপ করার পর দেখলাম, তাঁরাও এসবকে খারাপ ভাবছেন না, নিজ নিজ ছাত্রছাত্রীকে পাস করানোর জন্যে আমলই দিয়ে যাচ্ছেন। এক শিক্ষক তো আমাকে বলেই ফেললেন, ‘পাস করে যাক না বাচ্চাগুলি, আপনি উলটাপালটা বলছেন কেন?’ বড্ডো বিস্মিত হলাম। কিছু শিক্ষক আমাদের শিক্ষাকে অন্তঃসার শূন্য করতে ও বাচ্চাদের ভবিষ্যত্ অন্ধকারাচ্ছন্ন্ন করতে পরীক্ষাকেন্দ্রে এমন নোংরামি করে যাচ্ছে। তাঁদের বোধদয় হবে কবে?

নরসিংদী