হাকালুকি হাওরে অতিথি পাখির সমাগম কম

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩২

দেশের সর্ববৃহত্ হাওর হাকালুকি। মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ৫টি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বেষ্টিত এই হাওর। শীতের এই মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি আসে হাকালুকি হাওরে। এতে প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষাসহ নানা জাতের পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে হাওর এলাকা। পাখির নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে প্রতিবছর শতশত দর্শনার্থী হাওর পাড়ে ভিড় জমায়। তবে এ বছর হাওরে অতিথি পাখির আগমন কিছুটা কম বলে মন্তব্য করেছেন যুধিষ্টিরপুর ভিলেজ কনজারভেশন গ্রুপ (ভিসিজি) কমিটির অন্যতম সদস্য হেলাল উদ্দিন।

শীত মৌসুমে বিশ্বের শীতপ্রধান দেশগুলো খাদ্য ও প্রজননের অনুপোযোগী হয়ে পড়লে ওই সকল দেশের পরিযায়ী পাখি দল বেঁধে ট্রপিক্যাল এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের জলাশয়গুলোতে চলে আসে। হাকালুকি হাওরে প্রায় তিনশত ছোট-বড় বিল রয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে এই সকল বিলে বা জলাশয়ে হাজার হাজার অতিথি পাখি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে উড়ে হিমালয়ের উপর দিয়ে না এসে পার্শ্ববর্তী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে আসে। এই সকল অতিথি পাখির মধ্যে বালিহাস, সরালি, লেংজা, পানকৌড়ি, চখাচখি, খঞ্জন, কাদাখোঁচা, সাদাবক, ভূতিহাস, নীলগিরি-সহ শতাধিক প্রজাতির অতিথি পাখি রয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মত্স্য অফিসার সুলতান মাহমুদ জানান, হাকালুকি হাওরে হিজল, করচ জাতীয় জলজ গাছগুলি কমে যাওয়ার ফলে আগত পাখিগুলো পর্যাপ্ত খাদ্য ও বসার জায়গা পাচ্ছে না, ফলে রাত্রিকালে তারা নিরাপত্তার অভাব বোধ করে। হাওরের হিজল, করচের পানি ফল ফোদল অতিথি পাখিদের কাছে খুব প্রিয়। বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলার চকিয়া কাঙলি, গোবরকুড়ি, হাওরখাল, হাওয়াবর্না, ফুটবিল, গড়কুড়ি প্রভৃতি বিলে কিছু পাখি দেখা যাচ্ছে তবে গত বছরের তুলনায় কম।

বন বিভাগের মৌলভীবাজারের রেঞ্জ অফিসার মো. জুহাস উদ্দিন জানান, বড়লেখা উপজেলার রনচি, কালিজুড়ি, কালাপানি, বড়মেধা বিলে বেশ কিছু পাখি দেখা যাছে তবে পাখি আসার সময় রয়ে গেছে। এই বছর এখনও পাখি শুমারি হয় নাই, পাখি শুমারি হলে সঠিক চিত্র জানা যাবে।