নাগরপুর উপজেলা এখন ইটভাটার নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাসকারী এ এলাকাতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ২২টি ইটের ভাটা।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে উঠা এসব ইটভাটা স্ব-মহিমায় মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ভাটার কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ। বেড়ে চলেছে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ, শ্বাসকষ্ট ও ক্যান্সারের মতো মহামারী ব্যাধি। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গর্ভধারণ, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে উঠা। মানুষের পাশাপাশি রোগাক্রান্ত হচ্ছে গৃহপালিত পশু-পাখি। এছাড়া আবাদি জমির উপর অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন মৌসুমী ফল। অথচ উপজেলার শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। প্রতিটি পরিবারের একমাত্র আয়ের উত্স ধান, গম, পাট ও অন্যান্য রবিশস্য। এছাড়া অনেকেই বরই, আম ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ইটের ভাটার প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহূত হয় মাটি। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটের ভাটায় বিক্রি করছে এক শ্রেণির অসাধু মাটি ব্যবসায়ী। ভাটার কাঁচামালের যোগান দিতে ফসলি জমির টপ সয়েল বা উর্বর মাটি কেটে ফেলায় চাষাবাদের জমি অনুর্বর হয়ে পড়ছে। আর এ মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রলি বা ট্রাক্টর। অনুমোদনহীন এসব ট্রাক্টরের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। তাছাড়া এ সকল ভাটায় কয়লা পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও তারা আইনের তোয়াক্কা না করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে কাঠ। ফলে উজাড় হচ্ছে বনভূমি।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে মোঃ রফিক মোল্লা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও থামেনি নতুন ইটভাটা নির্মাণ কাজ। প্রতি বছরই ভাটা তৈরি করছে এলাকার একশ্রেণির প্রভাবশালী ইটভাটা ব্যবসায়ী। যে যত প্রভাবশালী তার ইটের ভাটার পরিমাণ তত বেশি। নাগরপুরবাসী নীরব মৃত্যু নিয়ে এ খেলার অবসান চায়।
এ ব্যাপারে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মোঃ আশরাফ আলী বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়ার ফলে মানুষের এ্যাজমা, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টের মতো কঠিন রোগ হতে পারে।
নাগরপুরে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফয়েজুল ইসলাম জানান, আমি নাগরপুরে সবেমাত্র যোগদান করেছি। নাগরপুরে কতগুলো ইটভাটার অনুমতি নেই খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নবাগত জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমি সদ্য এ জেলাতে যোগদান করেছি। অনুমোদনহীন ইটভাটার বিষয়ে সঠিক তথ্য নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
