মার্চ এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের স্মৃতি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২১, ১৯:৫০

  জান্নাতুল ফেরদৌস

 

এক বছরের বেশি সময় হয়ে গেছে ক্লাসে না-ফেরার। বন্ধুরা সবাই মিলে একসঙ্গে হইহুল্লোড় কিংবা ট্যুরে না যাওয়ার। গত বছর মার্চে সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। হঠাত্ করেই অতিমারি করোনার আক্রমণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হলো, আর কবে ক্যাম্পাসে ফেরা যাবে তাও নিশ্চিত করে জানি না কেউ। প্রযুক্তির বদৌলতে অনেকের সঙ্গে কথা হচ্ছে, যোগাযোগ হচ্ছে; কিন্তু ক্লাস-পরীক্ষা শেষে টং দোকানে চায়ের কাপে, ক্যাম্পাসের এক কোণে অলস বিকালে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধূসর সন্ধ্যায় সিনিয়র, জুনিয়রদের আড্ডা কিংবা বিভাগের ট্যুরের স্মৃতি রঙিন করা সময়গুলো কবে ফিরে পাব জানি না। বিভিন্ন ব্যাচের পরীক্ষা থাকায় গত বছর বিভাগের ট্যুরের সময়টা পড়ে ছিল মার্চে।

করোনা সংক্রমণের খবরে শিক্ষকরা নিরাপত্তার স্বার্থে ট্যুর বাতিলের কথা বললেন। ওদিকে বাসের ভাড়াসহ ট্যুরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। সদ্য ভর্তি হওয়া একটি ব্যাচসহ প্রায় সব ব্যাচই ট্যুরে যেতে ইচ্ছুক। অবশেষে তত্কালীন বিভাগীয় প্রধান শহীদুল ইসলাম শ্যামল স্যারের নেতৃত্বে ১২ মার্চ রাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৯০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে টেকনাফের উদ্দেশে ছাড়ল দুইটি বাস। পরদিন সকালে টেকনাফে নাশতা সেরে জাহাজে করে সাধু দ্বীপে যাওয়ার পালা। জাহাজ ছাড়লে সমুদ্রের জলরাশির সৌন্দর্যের সঙ্গে সাদা গাঙচিলের ওড়াউড়ির এক চমত্কার রূপ উপভোগ করল সবাই। জাহাজে সিনিয়র, জুনিয়র—সবার গলা ছেড়ে গান গাওয়া দেখে মনে হচ্ছিল পুরো জাহাজটাই আমাদের। সেন্টমার্টিন পৌঁছে সবাই মিলে সবুজে ঘেরা নীল জলরাশির দ্বীপ ঘুরে দেখলাম। সন্ধ্যায় সাগরতীরে ঢেউয়ের গর্জন শুনে এসে একসঙ্গে খাওয়া। সিনিয়র, জুনিয়র—সবাই যেন বন্ধুর মতো হয়ে গিয়েছিল। ১৪ তারিখ ভোরে সূর্যোদয় দেখতে ওঠা। সঙ্গে জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য দেখে সকালের নাশতা সেরে ট্রলারে করে গেলাম অপূর্ব সুন্দর ছেঁড়াদ্বীপে। সেখানে নীল জলরাশির সঙ্গে, ঝাউবনে স্মৃতি ধরে রাখতে চলল ফটোসেশন। সেদিন সন্ধ্যায় আমাদের খাবার হোটেলে আয়োজন করা হয়েছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। এক পাশে বার্বিকিউ হচ্ছে, অন্যপাশে গান, কবিতা, নাচ ও কৌতুকের আসর।

তৃতীয় দিন সকালে সমুদ্রতীরের প্লাস্টিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান শেষে খেলাধুলার অংশ। দুপুরের খাবার শেষে আবার জাহাজে করে ফেরার পালা। স্যারসহ সিনিয়রদের সতর্কতা এবং সবার দায়িত্বশীল আচরণের কারণে খুব সফলভাবেই ১৬ মার্চ সকালে ক্যাম্পাসে ফিরি আমরা। ১৮ মার্চ থেকেই ক্যাম্পাস বন্ধ হয়ে যায়। আর একসঙ্গে বসা হয়নি সবার, যে যার বাড়ি চলে আসে। এখন একটাই কামনা—সুস্থ হও পৃথিবী তন্ন তন্ন করে খুঁজে আনি বিশ্বসংসারের সৌন্দর্য।