শীতলক্ষ্যায় কার্গো জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চডুবি, ছয় নারীর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২১, ০০:৪৩

শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে লঞ্চডুবির ঘটনায় গতকাল রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ছয় নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে নিখোঁজ সাত জনের নাম জানিয়েছেন তাদের স্বজনেরা। উদ্ধারকৃত লাশগুলোর নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৪০-এর মধ্যে বলে জানা গেছে। উদ্ধারকৃত লাশগুলো নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এর আগে গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে সদর উপজেলার চর সৈয়দপুর এলাকায় একটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় এসকে-৩ রাবিত আল হাসান নামে লঞ্চটি অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়। লঞ্চটি নারায়ণগঞ্জ থেকে মুন্সীগঞ্জে যাওয়ার পথে অপর একটি কর্গোর ধাক্কায় নদীতে নিমজ্জিত হয়। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের নারায়ণগঞ্জের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন জানান, ছয় জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমাদের কার্যক্রম চলছে। এদিকে নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েক জন যাত্রী। তাদের মধ্যে মহারাণী, শুনিতা সাহা এবং তার দুই ছেলে অনিক সাহা ও বিকাশ সাহা, প্রতিমা, সালাম বেগম ও সোলেমান নামে সাত জনের নাম জানা গেছে।

নারায়ণগঞ্জ নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম জানান, চরসৈয়দপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যায় নির্মাণাধীন সেতুর কাছাকাছি স্থানে একটি লাইটার জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চটি ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া লঞ্চটির মালিকের নাম আলাল হোসেন। তিনি মুন্সীগঞ্জের বাসিন্দা। লঞ্চের এক যাত্রী মুন্সীগঞ্জের অধিবাসী অটোচালক দিপু জানান, বড় একটি জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে লঞ্চটি ডুবে যায়। তিনি সাঁতরে তীরে ফিরতে পেরেছেন। নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জের উপপরিচালক মোবারক হোসেন জানান, ৪৩ জন যাত্রী নিয়ে লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জের দিকে রওনা হয়। চর সেয়দপুর এলাকায় শীতলক্ষ্যায় নির্মাণাধীন সেতুর কাছাকাছি স্থানে অপর একটি জাহাজের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযানে নেমেছেন। কালবৈশাখী ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে। বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীপক চন্দ্র সাহা জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চটিতে ৫০-৬০ জন যাত্রী ছিল। এদিকে লঞ্চডুবির খবর পেয়ে যাত্রীদের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তাদের আহাজারিতে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ওদিকে লঞ্চডুবির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সদর উপজেলার ইউএনও নাহিদা বারিক।