স্পোর্টস ডেস্ক
সার্বিয়ান তারকা নোভাক জকোভিচ অজি ওপেনের ফাইনালে স্প্যানিশ রাফায়েল নাদালকে ৬-৩, ৬-২, ৬-৩ সেটে হারিয়ে ২০১২-এর আসরের পুনরাবৃত্তি ঘটালেন। মেলবোর্নের ফাইনালে এমন জয়ে রয় এমারসন ও রজার ফেদেরারকে টপকে গ্র্যান্ড স্ল্যামটি রেকর্ড সপ্তমবার জেতার কীর্তি গড়লেন তিনি। সাথে সাথে ক্যারিয়ারের ১৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামটি জিতে সবচেয়ে বেশি গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়ের তালিকায় বর্তমানে পিট সাম্প্রাসের সঙ্গে যুগ্মভাবে তিনে অবস্থান করছেন ‘জোকার’।
ম্যাচের শুরু থেকে একক আধিপত্য ছিল জকোভিচেরই। ২০১২ সালে যেখানে দুজনের লড়াইটা চলেছিল ৫ ঘন্টা এবং ৫৩ মিনিটজুড়ে, সেখানে এই ম্যাচ দীর্ঘায়িত হলো মাত্র দুই ঘন্টা চার মিনিট! ফাইনালের আগে একটিও সেট হারেননি নাদাল, কিন্তু কালকের ফাইনালে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ম্যাচের প্রথম সেটটি যখন হারলেন নাদাল, ম্যাচের গতিপথটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল সেখানেই। প্রথম সেটে ৬-৩ গেমে হারের পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি নাদাল।
পক্ষান্তরে নাদালকে কোণঠাসা করে ফেলার পর ক্রমেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিলেন জকোভিচ। পরের দুই সেটে প্রতিপক্ষ নাদালকে ক্রমান্বয়ে ৬-২ ও ৬-৩ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের ১৫ তম গ্র্যান্ডস্ল্যাম শিরোপা জয় করেন জকোভিচ। সার্বিয়ান প্রতিপক্ষটির সঙ্গে বেশ কিছু মহাকাব্যিক ম্যাচের জন্ম দিয়েছিলেন নাদাল। কিন্তু এবারের দেখায় কেবল অসহায় আত্মসমর্পণের পর জালের কাছে গিয়ে নাদাল অভিনন্দন জানালেন জকোভিচকে। ম্যাচের পরে পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে দাঁড়িয়ে জকোভিচ ধন্যবাদ জানালেন তার পরিবারকে। তবে চোটের সঙ্গে ক্রমাগত লড়াই করে যাওয়া প্রতিপক্ষ নাদালকেও অভিনন্দন জানালে ভুললেন না তিনি।
ইনজুরির কারণে বিগত বছরগুলোয় বেশ কম ম্যাচ খেলেছেন নাদাল। ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানালেন সেটিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য, ‘বিগত বছরগুলোয় আমি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এ সময়ে আমি মাত্র নয়টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি এবং দুটো থেকে অবসরও নিতে হয়েছিল আমাকে। আর ইউএস ওপেনের পর থেকে আমি পেশাদার ম্যাচ খেলতেও সক্ষম ছিলাম না।’
গেল আসরে চোটের কারণে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন নাদাল। পেটের পেশীতে সমস্যার কারণে গত বছর বেশ ভুগেছেন তিনি, এ সময়ে গোঁড়ালিতে অস্ত্রোপচারও করাতে হয়েছিল তাকে। তিনি জানালেন চোট কাটিয়ে ফেরাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার জন্য। নাদালের ভাষায়, ‘যদিও আজকের রাতটা আমার রাত ছিল না। তবে আমার জন্য ইনজুরি থেকে ফেরাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
এবারের আসরের ফাইনালের আগে একটি সেটেও হারেননি নাদাল। জানালেন যে এমন পারফর্মেন্স ভবিষ্যতের জন্য তাকে প্রেরণা ও আত্মবিশ্বাস যোগাবে, ‘আমি বিশ্বাস করি শেষ দুই সপ্তাহে আমি বেশ ভালো টেনিস উপহার দিয়েছি। এবং এটা অনেক শক্তির ব্যাপার। অনাগত দিনের জন্য এটা আমাকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।’
ফাইনালে সরাসরি সেটে হারার পর ভবিষ্যতে বড় অর্জনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে জানালেন নাদাল। তিনি বলেন, ‘আমি আমার লড়াই চালিয়ে যাবো এবং অনুশীলনে ঘাম ঝরানো অব্যাহত রাখবো। ভবিষ্যতে নিজেকে এরচেয়েও ভালো কিছুর সুযোগ তৈরি করে দেয়ার জন্য এমনটা করে যাবো আমি।’
