দেশের অ্যাথলেটিকসে আশার আলো

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫০

প্রায় অর্ধযুগ শেষ হয়ে গেল। জাতীয় অ্যাথলেটিকসে কোনো জাতীয় রেকর্ড হওয়া দূরের কথা পারফরম্যান্স নিয়েও আলোচনা ছিল না। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন।

এবারের সেরা অ্যাথলেট হয়েছেন সেনাবাহিনীর সুমি আক্তার। তিনি ব্যক্তিগত চারটি সোনার পদক জয় করেছেন। সুমী ৪০০, ৮০০, ১৫০০, ৩০০০ মিটার রীলেতে স্বর্ণ জয় করেন। বিকেএসপির জহির রায়হান ১টি জাতীয় রেকর্ডসহ দুটি সোনার পদক জয় করেছেন। এবার জাতীয় অ্যাথলেটিকসে জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। ইলেকট্রনিক টাইমিং ব্যবহার হয়েছে। সবাই খুশি। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে নৌবাহিনীর ইসমাইল, ২০০ মিটার স্প্রিন্টে নৌবাহিনীর সোহাগী আক্তার এবং বিকেএসপির জহির রায়হান ৪০০ মিটার রীলেতে এবং নৌবাহিনীর ইব্রাহিম শটপুটে রেকর্ড গড়েছেন। এদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছে অ্যাথলেটিকস।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু বারবার বলে আসছিলেন নতুন কিছু উপহার দিতে চান। নতুন মুখও পাওয়া যাবে। নতুন এসেছেও। আশার আলো দেখতে পাচ্ছে ফেডারেশন। এখান থেকে নতুন যাত্রা শুরু করতে চায় অ্যাথলেটিকস। যারা উঠে এসেছেন তাদের নিয়ে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার কথাও বলছেন অ্যাথলেটিকসের সংশ্লিষ্টরা। কারণ ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ে হিসাব-নিকাশটা সহজ হয়। এখন কথা হচ্ছে দেশের অ্যাথলেটিকস যতটুকু এগিয়ে গেল তার চেয়েও ঢের বেশি এগিয়ে যাচ্ছে সাফের অন্য অ্যাথলেটরা। বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসের দৌড় সর্বোচ্চ এসএ গেমস পর্যন্ত। বাংলার অ্যাথলেটদের সঙ্গে পাল্লা দিতে নয়। ভারত শ্রীলঙ্কার অ্যাথলেটরা এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে অনুশীলন করে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশ এখনো এসএ গেমস নিয়ে ভাবছে।

হ্যান্ডটাইমিংয়ে খেলতে খেলতে বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা এসএ গেমসে গিয়েও পারছে না। সেই দুখের দিন নেভাতে চায় বর্তমান অ্যাথলেটরা। গোলাম আম্বিয়া, মিলজার হোসেন, শাহআলমরা যেভাবে এসএ গেমস মাতিয়ে তুলেছিল সেই প্রদীপ অনেক আগেই নিভে গেছে। এখন বাংলার অ্যাথলেটরা এসএ গেমসে মাতানোর চিন্তাও করেন না। এখন আশার আলো হচ্ছে এবারের ৪২তম আসর। নতুন সম্ভাবনা দেখছেন তা নিয়ে অ্যাথলেটিকস কোচ রফিক উল্যা মিলন। ইলেকট্রনিক টাইমিং খুব ভালো হয়েছে। আশার আলো জাগিয়েছে। তবে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি অন্যরা আরও বেশি এগিয়ে।  এটাও খেয়াল রাখতে হবে।’

অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মন্টু ভালো খেলোয়াড়দের বিদেশে পাঠানোর জন্য কিংবা বিদেশি কোচ ঢাকায় এনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, ‘আমি হ্যাপি না একটা মেডেল দিয়ে। তাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে হবে।’ এই কর্মকর্তা জানান, তার বাবা সাবেক জাতীয় অ্যাথলেট আলহাজ বশির আলী ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জাতীয় রেকর্ডধারীদের জন্য ১০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন।