বিভাজনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৮

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, বিভাজনে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১১ সালে ঢাকাকে বিভাজন করা হয়। বিভাজনে ঢাকা দক্ষিণ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হয়তো ভূমি জরিপ বা এলাকাগত বিষয়ের কারণে এই ক্ষতি হয়। বিভাজনের পর রাজস্ব আয়ের ৪০ ভাগ পায় ডিএসসিসি ও ৬০ ভাগ পায় ডিএনসিসি। অপরদিকে রাজস্ব ব্যয়ের ৬০ ভাগ খরচ হয় ডিএসসিসির আর ৪০ ভাগ খরচ হয় ডিএনসিসির। এটা বড় বৈষম্য। গতকাল রবিবার নগর ভবনের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মিলনায়তনে ‘আধুনিক নাগরিক সেবা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, আট বছর আগে জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। কিন্তু আজও তা অনুমোদন হয়নি, এটা দুঃখজনক। বর্তমানে আমাদের মাত্র ৪০ শতাংশ জনবল রয়েছে যা দিয়ে কোনোভাবেই নাগরিকদের শতভাগ সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। যেকোনও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকবে এটা হতে পারে না। তাই মন্ত্রীকে বলতে চাই, আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল দিন।

ডিএসসিসির রাজস্ব আয় বাড়ানোর বিষয়ে মেয়র বলেন, ৩০ বছর ধরে ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট বন্ধ রয়েছে। নির্বাচনের আগে আমরা ট্যাক্স অ্যাসেসমেন্ট করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনের কারণে তা বন্ধ করতে হয়েছিল। আমাদের এ সেবা সংস্থাটিকে স্বাবলম্বী করতে ওই প্রজ্ঞাপনটি উঠিয়ে নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেছেন, নগর উন্নয়নে ৫ বছরের জন্য পরিকল্পনা করলে হবে না। এজন্য ১০০-২০০ বছরের জন্য মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে।

নাগরিক সমস্যা সমাধানে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। তবে এ পরিবর্তনকে আরও বেগবান করতে হবে। সুদূরপ্রসারী কোনও মাস্টারপ্ল্যান না থাকা ঢাকার প্রধান সমস্যা। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের সমন্বয় করে কাজ করতে চাই। যেমনঃ মশা নিধন, রাস্তা সংস্কার, খোঁড়াখুঁড়ি-এগুলো দুই সিটি করপোরেশন এবং সেবা সংস্থাগুলোকে একসঙ্গে করতে হবে।

সভায় কাউন্সিলরদের তুলে ধরা সমস্যার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, হকার সমস্যা সমাধানে আপনারা একসঙ্গে বসুন, আলোচনা করুন। আমাকে জানান আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। এ সময় স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ওয়াসার এমডিকে নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, খাদ্যে ভেজাল বন্ধে একে নিয়মিত ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে হবে, যেখানে কাউন্সিলররাও সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। এ সময় বর্জ্য থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য, সচিব এস এম গোলাম ফারুক, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসকিন এ খান, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, রফিক আজম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, সচিব শাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ।