পৌরসভায় নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েও আব্দুর রাজ্জাক ফুটপাতের দোকানে চা বিক্রি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধি চা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন যা কিনা বর্তমান সমাজে বিরল দৃষ্টান্ত। অভাব, অনটন আর দারিদ্র্য দূর করার জন্য গত ১০ বছর ধরেই তিনি ফুটপাতের দোকানে চা বিক্রি করে আসছেন।
আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের বাইমহাটি গ্রামে। বাবা নাম মোঃ নাজিম উদ্দিন একজন দিনমজুর। দুই সন্তানের জনক কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাককে রবিবার উপজেলা সদরের জামে মসজিদ ও বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন ফুটপাতে মুদি দোকানে চা বিক্রি করতে দেখা গেছে। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মির্জাপুর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার জনসাধারণের অনুরোধে আব্দুর রাজ্জাক ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মির্জাপুর পৌরসভায় ৯ জন কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেও তাদের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক অন্যতম। তিনি নিয়মিত পৌরসভায় অফিস করেন এবং তার ওয়ার্ডের নাগরিকদের সকল ধরনের সেবা ও সহযোগিতা করেন। পৌরসভার পক্ষ থেকে তার ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় তার পুরোটাই এবং পৌরসভার পক্ষ থেকে যে পরিমাণ সামান্য ভাতার টাকা পান সে টাকাও তিনি জনগণের উন্নয়নের জন্য ব্যয় করে থাকেন। ফুটপাতে তিনি একটি মুদি দোকানে চা বিক্রি করে যা আয় রোজগার করেন, তাই দিয়ে কোন রকমে সংসার চালান। বর্তমান সমাজে একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচার ব্যবহার কখনো চোখে পড়ে না বলে এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।
কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মুদি দোকানে চা বিক্রি করে আমি সংসার চালাচ্ছি। অনেক কষ্টের মধ্যেও ন্যায় আর সততা নিয়ে চা বিক্রি করেই দুই সন্তানকে লেখাপড়া শেখাচ্ছি। বিভিন্ন মহল যদি সহযোগিতার হাত বাড়ায় তাহলে হয়তো সন্তান দুটিকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারবো। মানুষ আমাকে যে সম্মান ও ভালোবাসে এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া। মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি মানুষের সেবা করে যেতে চাই।
মির্জাপুর পৌরসভার মেয়র ও সাবেক ভিপি মোঃ শাহাদত্ হোসেন সুমন বলেন, কাউন্সিলর আব্দুর রাজ্জাক একজন সত্, দায়িত্বশীল, ন্যায়পরায়ণ, ভালো ও উদার মনের মানুষ। তিনি সমাজের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেন।
