বাঘা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১০ ডাক্তারের মধ্যে সাতজনই অনুপস্থিত!

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৩

বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা

রাজশাহী জেলা সদর থেকে ৪৫ কিলোমিটার পূর্বদিকে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এখানে চিকিত্সার জন্য অপারেশন থেকে শুরু করে সবধরনের যন্ত্রপাতি আছে। অথচ না করা হয় ছোটখাটো অপারেশন কিংবা না করা হয় সিজার (প্রসূতি-ডেলিভারি)। কারণ এখানে নেই ভাল কোনো চিকিত্সক। এই মুহূর্তে  কাগজে-কলমে ১০ জন ডাক্তার  থাকলেও  বাস্তবে আছেন মাত্র তিনজন। ফলে প্রতিনিয়তই হয়রানীর শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

সরেজমিনে শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বাঘা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে কোনো ডাক্তার নেই। সেখানে কর্তব্যরত একজন ব্রাদার জানান, স্যার ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছেন। এরপর সেখানে গিয়েও কোনো ডাক্তার চোখে পড়েনি। অতপর বহিঃবিভাগে গিয়ে দেখা যায় রোগিরা টিকিট নিয়ে ভিড় জমাচ্ছেন একজন নারী হারবাল চিকিত্সকের রুমে। খোদ হিসাবরক্ষক তিনিও তখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য বিভাগে উপস্থিত হননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডাক্তার জানান, এখানে কাগজে-কলমে ১০ জন ডাক্তারের নাম থাকলেও এই মুহূর্তে স্বাস্থ্য বিভাগের বড়কর্তা (টিএইসএ) ডা. সিরাজুল ইসলাম এবং (আরএমও) ডা. সঞ্জয় কুমার স্বাস্থ্য বিষয়ক ট্রেনিং-এ জেলা শহর রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়াও ডা. শাওন, ডা. কাফি ও ডা. রুকসানা এই মুহূর্তে ডিপার্টমেন্টাল পরীক্ষার জন্য ঢাকায় রয়েছেন। অপর একজন চিকিত্সক ডা. রুকসানা কাগজে-কলমে স্বাক্ষর থাকলেও তিনি কোনো  দায়িত্ব পালন না করে অসুস্থতার অজুহাতে  রাজশাহীতে অবস্থান করছেন।

স্থানীয়রা জানান, এখানে ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হলেও প্রভাব খাটিয়ে তারা অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। এতে করে মারাত্মক বিড়ম্বনা ও হয়রানীর শিকার হতে হয় এই অঞ্চলের রোগীদের। মাঝে-মধ্যে দুই-একজন ডাক্তারকে এখানে পোস্টিং দেয়া হলেও তারা  হাসপাতালের  কোয়ার্টারে থাকেন না। অভিযোগ রয়েছে, এই স্বাস্থ্য বিভাগের আবাসিক কোয়ার্টারে থাকেন অবসর নেওয়া হিসাবরক্ষক, পুলিশ, বহিরাগত ব্যক্তি এবং  বুকিং-এর দায়িত্বে নিয়োজিত একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী।

বাঘা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান কর্মকর্তা (টিএইসএ) ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এখানে ৩১ শয্যার লোকবল দিয়ে ৫০ শয্যা হাসপাতাল চালাতে হয়। মাঝে মধ্যে বিশেষ কারণ বসত দুই-একজন ডাক্তার না এলে নিরুপায় হয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে স্বাস্থ্য সহকারীদের নিয়ে আসি। তিনি ডাক্তার সংকটের বিষয়ে  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করেছেন বলে জানান।