বাংলাদেশের গবেষকরা প্রতি বছর কয়েকশ নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছে, কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী এগুলোর মেধাস্বত্ব করা হচ্ছে না। মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ না করায় বাংলাদেশ প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকা হারাচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট গবেষকও।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৪৭ বছরে দুই হাজার ৭২টি পেটেন্টের জন্য আবেদন করেছে, যার মধ্যে গৃহীত হয়েছে ৬৭৯টি। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের ৭৯ হাজার ৬২৪টি এবং চীনের ৪৮ হাজার ৮৮২টি পেটেন্ট গৃহীত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের হায়ার এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যানহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (হেকেপ) থেকে গবেষকদের মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের বিষয়ে নানাভাবে উত্সাহ যোগাচ্ছে। গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছে।
হেকেপে’র প্রকল্প পরিচালক ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত বলেন, আমাদের প্রকল্প থেকে ইতোমধ্যে গবেষণার জন্য ৪০০ এর বেশি সাব প্রজেক্ট দিয়েছি। এজন্য ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৮০২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০টা সাব প্রজেক্টে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। এই প্রজেক্টের মাধ্যমেই আমাদের শিক্ষকরা রক্তের মাধ্যমে ক্যান্সার রোগ নির্ণয়, গবাদি পশুর খুরা রোগ নির্ণয়সহ যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন।
ড. গৌরাঙ্গ চন্দ্র মোহান্ত বলেন, বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা নতুন কিছু উদ্ভাবনের পর তা প্রকাশের জন্য অস্থির থাকেন। উদ্ভাবনের পরই বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এর ফলে তার সেই উদ্ভাবনের ফল নিয়ে যাচ্ছে অন্য কেউ। ওই গবেষকের উচিত সবার আগে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করা। এ জন্য নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হবে বলে তিনি জানান।
ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস এন্ড ইনোভেশন বিশেষজ্ঞ ভারতীয় অধ্যাপক ড. অরবিন্দ চিনচুরে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একজন অধ্যাপকই পেটেন্টের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে প্রতিবছর ৩০ বিলিয়ন ডলার আয় করে দিচ্ছেন। বাংলাদেশে এখন তরুণদের সংখ্যা বেশি। ফলে তাদের সামনে বিপুল সম্ভাবনা। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণায় জোর দিতে হবে এবং মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ করতে হবে।
সম্প্রতি এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইবার) সদস্যদের নিয়ে একটি কর্মশালায় তিনি জানান, একটি গবেষণার জন্য তিনটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সেগুলো হলো- আবিষ্কারের নতুনত্ব, সৃজনশীলতা এবং শিল্প বা বাণিজ্যিকভাবে গবেষণাটি ব্যবহার উপযোগী কি না?
বিশেষজ্ঞরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে আসছেন। যা বিশ্ব দরবারে আকর্ষণীয় ও বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান। কিন্তু মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ না করায় উদ্ভাবনকারীরা সেই পণ্যের স্বত্বাধিকারী দাবি করতে পারছেন না।
