বালাগঞ্জে চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন!

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৫

ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা

চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পাঁচ দফার ঘোষিত তফসিলের ২য় দফায় বালাগঞ্জ পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি ১১৭টি উপজেলার নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সম্পন্ন হয়। ওই নির্বাচনে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ওসমানীনগরের বাসিন্দা আবদাল মিয়া ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ওসমানীনগর উপজেলার বাসিন্দা রেফা বেগম এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদে খেলাফত মজলিসের সৈয়দ আলী আছগর নির্বাচিত হন।

 কিন্তু নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এবছরের মধ্যেই উপজেলাটিকে বিভক্ত করে ওসমানীনগরকে একটি পৃথক উপজেলা ঘোষণা করায় পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান ব্যতীত উপজেলা চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পৃথক উপজেলা ওসমানীনগরের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যান। বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দাল মিয়ার বাড়ি ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের সিকন্দরপুর গ্রামে এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়ি একই উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের লামা তাজপুর গ্রামে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী চলতি বছর ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ছয়পর্বে মোট ৪৯২ উপজেলার মধ্যে প্রথম পর্বে ১’শটি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।  ফেব্রুয়ারি থেকে ক্রমান্বয়ে তফসিল এবং মার্চ থেকে নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তাই বালাগঞ্জ উপজেলার বর্তমান পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমান নির্বাচনী উপজেলায় পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেবেন কি নেবেন না এই নিয়ে উপজেলার ভোটারদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে বালাগঞ্জে নির্বাচন করার লক্ষ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া বালাগঞ্জের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া বলেন, যেহেতু এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হবে তাই এখানে দলীয় সিদ্ধান্ত এবং মানুষের মতামতের বিষয়টিও চিন্তা করতে হচ্ছে। এছাড়া আমি নির্বাচিত হওয়ার পর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়ের করা মামলাটি উচ্চ আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রেফা বেগম বলেন, যদিও আমি ওসমানীনগরের স্থায়ী বাসিন্দা। কিন্তু বিগত দিনে ওসমানীনগর বালাগঞ্জের অধীনে থাকাবস্থায় আমি নির্বাচিত হই। আগামীতে বালাগঞ্জে নির্বাচন করার কোনো আগ্রহ আমার নেই। তবে পরবর্তী সময়ে নিজ উপজেলা ওসমানীনগরে নির্বাচন করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

২০১৫ সালের ১৩ জুলাই নতুন ইউএনওর যোগদানের মাধ্যমে ওসমানীনগর উপজেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর পর ২০১৬ সালের ৬ মার্চ উপজেলার অধীনে প্রথমবারের মত উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের সাথে দূরত্বজনিত সমস্যার কারণে পশ্চিমাংশের আটটি ইউনিয়নের  লোকজন ১৯৮৪ সাল থেকে আলাদা উপজেলা গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলো। ১৯৮৫ সালে থানা ও জেলা বিভক্তিকরণ কমিটির প্রথম শুনানি ও দাবির সঙ্গে ঐকমত্য পোষণ করে বালাগঞ্জে পৃথক আরেকটি থানা প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করা হয়।

১৯৯৯ সালের ২২ জুলাই তত্কালীন জাতীয় সংসদের স্পীকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী তাজপুরে এক অনুষ্ঠানে বালাগঞ্জের পশ্চিমাংশের আটটি ইউনিয়ন নিয়ে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি বঙ্গবীর জেনারেল এমএজি ওসমানীর নামে পৃথক থানা ও  পৌরসভা গঠনের  ঘোষণা  দেন। ২০০১ সালের ২২ মার্চ তত্কালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  মোঃ নাসিম আনুষ্ঠানিকভাবে ওসমানীনগর থানার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ২০০৫ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানাকে উপজেলায় রূপান্তরিত করা হলেও ওসমানীনগর উপজেলা ঘোষণার দাবি উপেক্ষিতই থেকে যায়। অবশেষে ওসমানীনগর উপজেলা ঘোষণার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের ওসমানীনগর উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির  দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই অঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত দাবি বাস্তবায়িত হয়।