আলী ফজল মোহাম্মদ কাওছার
মা-বাবা আল্লাহ তাআলার দেওয়া এক অপূর্ব নেয়ামত। যারা এই নেয়ামতের একটি কিংবা দুটি হারিয়েছে তারা জানে কি হারিয়েছে। সন্তানের সুখের জন্য মা-বাবা নিজেদের জীবনের সমস্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দেন। একজন মা ১০ মাস ১০ দিন সন্তানকে গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীতে আনেন। এই দিনগুলো একজন মা কি পরিমাণের কষ্ট করেন কিংবা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় কি পরিমাণ কষ্ট পান তিনিই বলতে পারেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সন্তানের মুখ দেখে এত দিনের কষ্ট তিনি ভুলে যান। প্রায় দুই বছর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান। সীমাহীন স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে সন্তানকে লালন-পালন করেন। তদ্রূপ একজন বাবা সন্তানের সুখের জন্য জীবনের সোনালী দিনগুলো বিসর্জন দেন। সন্তান ভালোভাবে রাখার জন্য সুখে রাখার জন্য আজীবন সংগ্রাম করেন। সন্তানের চাহিদা পূরণের জন্য মা-বাবা নিজেদের সব চাওয়া ত্যাগ করেন। একজন সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে নিজেদের সর্বত্র দিয়ে চেষ্টা চালিয়ে যান। সন্তান যতটিই হোক সন্তানের প্রতি মা-বাবার ভালোবাসা সমান থাকে। একটি দুঃখজনক বিষয় দেখলে অত্যন্ত খারাপ লাগে যখন দেখা যায় বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দেয় কিছু সন্তান। যে সন্তানদের এত এত ভালোবাসা দিয়ে মা-বাবা লালন-পালন করেন। কিন্তু কিছু সন্তান বড় হয়ে সেই মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়। আর যারা মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দেয় তাদের মধ্যে অধিকাংশ উচ্চশিক্ষিত। কেউবা ডাক্তার কেউ ইঞ্জিনিয়ার কেউবা আইনজীবী কিংবা উচ্চ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা কিংবা ব্যাংকার। কিন্তু কেন? এত প্রিয় মা-বাবা যারা সন্তানকে বড় করতে গিয়ে মানুষ করতে গিয়ে এত কষ্ট করলেন তাদের স্থান কেন হবে বৃদ্ধাশ্রমে? যে মা-বাবা একজন সন্তানকে পৃথিবীতে আনলেন কষ্ট করে লালন-পালন করলেন। সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এত শ্রম দিলেন সেই সব সন্তানদের ফ্ল্যাটে, বাসায়, কিংবা বাড়িতে মা-বাবার স্থান হবে না কেন? অনেক মা-বাবার আবার একাধিক সন্তান থাকেন। যদি একাধিক সন্তানদের মা-বাবা স্মেহ ভালোবাসা দিয়ে লালন-পালন করতে পারেন তাহলে সেই সব সন্তানদের কাছে কেন মা-বাবার স্থান হবে না? কেন বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠবে? আমাদের দেশে কিংবা বহিঃবিশ্বে অনেক বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠেছে। যেখানে অনেক বৃদ্ধ মা-বাবার নিঃসঙ্গ জীবন কাটে। সন্তানের জন্য অপেক্ষার গ্রহর গুনেন। হয়ত তাদের বুকের মানিক তাকে আবার ফিরিয়ে নেবে কিংবা দেখতে আসবে। অনেকের অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় না। তাদের প্রিয় সন্তানের তাদের দেখতে আশার সময় হয় না। কেউবা সেখানে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেই শেষ বিদায়ের সময় তাদের বুকের মানিক তাকে দেখতে আসার সময় পায় না। এটা খুশির সংবাদ নয়। এটি সন্তানদের জন্য লজ্জার বিষয়। এই পৃথিবীতে সন্তান বেঁচে থাকতে কেন বৃদ্ধাশ্রম গড়ে উঠবে? মা-বাবা যেমন সন্তানদের স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে লালন করেন। তদ্রূপ সন্তানের উচিত মা-বাবাকে শ্রদ্ধা ভালোবাসা দেওয়া। নিজের কাছে রেখে মা-বাবার সেবা করা।
পরিশেষে বলতে চাই, আমাদের দেশসহ বহিঃবিশ্বে বন্ধ হোক বৃদ্ধাশ্রম। সব মা-বাবার শেষ জীবন কাটুক তাদের প্রিয় সন্তানদের সঙ্গে। আর কারো মা-বাবার শেষ দিনগুলো যেন প্রিয় সন্তানদের ছাড়া না কাটে। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা-বাবা।
n লেখক:শিক্ষার্থী, এমসি কলেজ, সিলেট
