রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
রাজারহাটে গত ১ সপ্তাহে প্রায় ৩ শতাধিক গরু-ছাগল ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ২২টি গরু ও ৮টি ছাগল মারা গেছে। এ রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিনের প্রকট সংকট দেখা দেওয়ায় খামারিসহ গবাদিপশু পালনকারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের পান্থাপাড়া এলাকায় রুবেল আলমের ১টি বাছুর, নজরুল ইসলামের ২টি বাছুর, মগদুল ইসলামের ১টি গাভী, আবু তালেবের ১টি বাছুর, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সুখদেব এলাকার হারুনের ১টি বাছুর, চাকির পশার ইউনিয়নের পূর্বপাঠকপাড়া গ্রামের গরুর খামারি মংলা মণ্ডলের ১টি গাভীসহ ৩টি গরু ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সুখদেব গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ২টি, আতাউর রহমানের ২টি, আমিনুল ইসলামের ২টি, সুজাউদৌল্লার ৫টি, হারুন অর রশিদের ১৫টি, চাকিরপশার ইউনিয়নের কুমরগঞ্জ এলাকায় ১২টি বাড়িতে আমবাড়ি এলাকায় ১০টি বাড়িতে, চাকিরপশার পাঠক এলাকায় ১০টি বাড়িতে, চকনাককাটি এলাকায় ১০টি বাড়িতে, ঘড়িযালডাঙ্গা ইউনিয়নের ২০টি বাড়িতে, ঋমর মজিদ ইউনিয়নের ২২টি বাড়িতে, নাজিমখান ইউনিয়নে ২০টি বাড়িতে, ছিনাই ইউনিয়নের ৩০টি বাড়িতে, রাজহারহাট ইউনিয়নের ১২টি বাড়তে, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ২৫টি বাড়তে প্রায় ৩শতাধিক গরু-ছাগল আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ রোগটির সংক্ষিপ্ত নাম এফএমডি (ফুড এন্ড মাউথ ডিজিস)। এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ।
এ রোগ হলে দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, জিহবা, দাঁতের মাড়ি, মুখগহ্বর, পায়ের খুরার মধ্যভাগে ঘা বা ক্ষতের সৃষ্টি হয়। গরুর বাছুর এ রোগে আক্রান্ত হলে বাঁচানো যায় না। আক্রান্ত অবস্থায় পশুটিকে এ রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া যায় না। যে বাড়িতে গরু আক্রান্ত হয়। আশেপাশের বাড়ির সকল গবাদিপশুকে রিং করে ভ্যাকসিন দিতে হয়। এছাড়া প্রতি ৪ মাস পর পর একবার করে ভ্যাকসিন দিতে হয়।
উপজেলা ভ্যাটেরিনারি সার্জন ডা. পবিত্র কুমার জানান, আক্রান্ত গরুকে ট্রাইভ্যালেন, বাইভ্যালেন ভ্যাকসিন দিতে হয়। রাজারহাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে এ রোগের ভ্যাকসিন সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া রাজারহাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে গবাদীপশুর ওষুধের দোকানগুলোতেও এ রোগের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে খামারিসহ পশুপালনকারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। খামারগুলোতে নিয়মিতভাবে ভ্যাকসিন দেওয়ায় এ রোগ দেখা দেয়নি বলে উপজেলা ভ্যাটেরিনারি সার্জন দাবি করেছেন। তিনি আরো জানান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে মাত্র ২ জন ভ্যাটেরিনারি ফিল্ড এ্যাসিটেন্ট থাকায় এবং জনবল সংকটের কারণে মাঠ পর্যায়ে তারা চিকিত্সাসেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছে। উপজেলার মংলা মণ্ডলসহ বেশ কয়েকজন গরুর খামারির সাথে কথা হলে তারা ক্ষুরা রোগের ভ্যাকসিন সংকটের কথা জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জোবাইদুল কবির জানান, ক্ষুরা রোগ সংক্রামক ব্যাধি এবং ছোঁয়াচে। বাইরের থেকে গরু কিনে নিয়ে আসা এবং আবহাওয়ার কারণে এ উপজেলায় ক্ষুরা রোগ দেখা দিয়েছে। একটি গরুকে আক্রমণ করলে ১ কিলোমিটারের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই রিং করে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হবে। অন্যান্য এলাকার চেয়ে রাজারহাটে তুলনামূলক এটি কম।
