তারেকসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে ------------পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৫৩

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, বিদেশে পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। গতকাল রবিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এছাড়া বিদেশে থাকা পলাতক সব খুনি ও দণ্ডিতদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। তার আসন্ন ভারত সফর নিয়ে বলেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বরাবরই ভালো। এই সফর হবে সৌহার্দপূর্ণ ও সম্প্রীতির। সেখানে আলোচনার বিষয় এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জার্মানি সফরের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সফরের বিষয়ে আলোচনা চলছে। সেখানে গেলে দেশটির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে সাইড লাইনে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়নের প্রশংসা করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার অ্যালিসন ব্লেইক বলেছেন, এই অব্যাহত উন্নয়নে যুক্তরাজ্য পাশে থাকবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেনের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের অসাধারণ উন্নয়ন অর্জনের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) অভিনন্দন জানাচ্ছি। বাংলাদেশের সঙ্গে কাজের মাধ্যমে আরও কিভাবে সম্পর্ক বাড়ানো যায়, এজন্য তাঁর সরকার উদগ্রিব রয়েছে বলেও জানান তিনি। এসময় জাতীয় নির্বাচনের পর আবারো রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে (চা-চক্রে) আমন্ত্রণ জানানোর প্রশংসাও করেন তিনি।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের ব্যাপারে সরকারের এ ধরনের প্রচেষ্টাকে আমি স্বাগত জানাই। কারণ বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে পুরোপুরি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত হতে হলে আরও অনেক কাজ করতে হবে। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য ও শাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা সন্তুষ্ট যে (বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে) একে অপরের পাশে থাকব। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের স্ট্যাটাস অর্জন করেছে এবং যুক্তরাজ্য ইইউ ত্যাগ করছে। তারপরও দুই দেশের নাগরিকদের জন্য স্থিতিশীল অবস্থা, অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য আমরা সহায়তা করে যাব। সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে, বাণিজ্যের উন্নয়নে এবং তৈরি পোশাক খাতে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশকে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাত্

গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুও। সাক্ষাত্কালে চীনা রাষ্ট্রদূত দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার, বেল্ট এবং রোড ইনিশিয়েটিভ এর আওতায় সকল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।