‘গ্রাম হবে শহর’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে রূপরেখা আসছে

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩:০১

প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রামীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ‘গ্রাম হবে শহর’ এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নবগঠিত সরকার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। আমার গ্রাম আমার শহর শিরোনামে রূপকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আলোকে সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী ডেল্টা প্লান প্রণয়ন করা হয়েছে। গ্রামীণ অঞ্চলকে উন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে রূপকল্প সাজানো হচ্ছে বলে পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, রূপকল্প-২০৪১ প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মূলত শিল্পোন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। নাগরিক সুবিধা গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্য থাকছে। গ্রামীণ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন রূপকল্পে সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া শিল্পোন্নত দেশ হলে গ্রাম-শহরের পার্থক্য খুব একটা থাকবে না।

জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি ২৮ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, পাকা সড়কের মাধ্যমে সব গ্রামকে জেলা-উপজেলা শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করা, গ্রামীণ অঞ্চলে উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি, সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের জন্য জেলা-উপজেলায় কলকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সেই সাথে ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তি সারাদেশের গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৩০ সালে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় হবে ৫ হাজার ৪৭৯ মার্কিন ডলারের বেশি। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। দারিদ্র্যের হার নেমে আসবে শূন্যের কোঠায়।