লিয়াকত হোসেন খোকন
মার্চের মাঝামাঝি থেকে দেশজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরকে টেক্কা দিয়ে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতিদিন সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। গতবারের থেকেও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠতে পারে এখন ভাইরাস। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার বলছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে ভ্যাকসিন নেওয়ার পাশাপাশি সমস্ত করোনাবিধি কঠোর-ভাবে পালন করাটা জরুরি। কিন্তু সেটা শুনছে ক’জন! লকডাউনসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ দেওয়ার পরেও রাস্তায় ভিড়ভাট্টা লেগেই রয়েছে। কেউ মানে না, কেউ শোনে না—বাইরে বের হচ্ছে; অথচ কত মানুষ ব্যবহার করছে না মাস্ক।
গত কয়েক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পরও জনতার একাংশের এখনো কোনো হেলদোল নেই। রাস্তায় অপ্রয়োজনে বের হওয়া, মাস্ক ছাড়া গণপরিবহনে ওঠা থেকে শুরু করে হাটবাজার, দোকানপাট বা অন্য প্রকাশ্য স্থানে মানুষের সেই বেপরোয়া ছবি ধরা পড়ছে। অনেকের মুখেই মাস্কের দেখা মিলছে না। কারো আবার থুতনি-কান-গলায় ঝুলছে, কারো পকেটে, কেউবা বাড়িতেই সযত্নে মাস্ক রেখে বাইরে বেরুচ্ছেন। সামাজিক দূরত্ববিধিও প্রায় শিকেয় উঠেছে। আমজনতা থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতা, কর্মী, দোকান মালিক সমিতি, কর্মচারী সচেতন না হলে করোনার ভয়াবহতা অবধারিত। আবার অনেক ক্ষেত্রে করোনায় শারীরিক যত না প্রয়োজন হয়েছে, মানসিক চিকিত্সা ঢের বেশি জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। বহু রোগীর পরিজন, প্রতিবেশী রোগীর পাশে না থেকে দুর্ব্যবহার করেছেন।
আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে করোনায় আক্রান্ত হয়। তার ঠিক এক মাস পরে তার স্ত্রী। তারা আমাকে ফোনে জানিয়েছিল, ‘ঐ পর্বে তথাকথিত বিচক্ষণ শুভানুধ্যায়ীদেরও দেখেছি নানা কদর্য আচরণ করতে। করোনা হাসপাতালে ছিলাম, নিপীড়িত হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট ছিল। গুজবের প্রাবল্যে নিজের শহরেই একদিন আক্রান্তও হতে হয়েছিল। কোনো ক্রমে শারীরিক নিগ্রহের হাত থেকে পরিত্রাণ পাই। সামগ্রিক অনাস্থা, অবিশ্বাস আর বিকৃত প্রতিক্রিয়া নগ্ন করে দিয়েছিল সভ্যতাকে। তবে উলটোটাও ছিল। ব্যতিক্রম কিছু তরুণ-তরুণী এগিয়ে এসেছিলেন, সহমর্মিতার হাত রেখেছিলেন সহনাগরিকের কাঁধে।’
হাসপাতালেও সেই বন্ধুটি দেখেছিল, অল্প বয়সি ছেলেমেয়েরা পরম যত্নে লড়ে গেছে ভাইরাসের বিরুদ্ধে। অপরিসীম সাহস ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন অনেকেই। বহু চিকিত্সকই আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন রোগীদের সুস্থ করার, যা কঠিন অন্ধকারেও আলোকবর্তিকা হয়ে জ্বলেছিল।
আমাদের স্মৃতি বড় ক্ষণস্থায়ী। যে হারে কোভিডবিধি আমরা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছি তাতে ভবিষ্যত্ ভাবতে ভয়ই হচ্ছে।
ঢাকা
