লটারির নামে প্রতারণা করে পাকিস্তানে টাকা পাঠানোর একটি চক্রের হদিশ পেয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের সিআইডি। ঘটনায় কলকাতার নিউটাউন থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে রাজেশ ঘোষ এবং বিধান কির্তনীয়া নামে দুই জনকে। রাজেশ প্রাণ বেভারেজ ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেডের অন্যতম ডিরেক্টর। সিআইডি সূত্রে খবর, বাংলাদেশের ফলজাত খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থা প্রাণ ফুড লিমিটেডের ভারতীয় শাখা এটি।
সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরেই তারা প্রতারণার অভিযোগ পাচ্ছিলেন। +৯২ নম্বর থেকে বিভিন্নজনের কাছে ফোন আসছিল। আন্তর্জাতিক টেলিকম রীতি অনুযায়ী পাকিস্তানের কোড ৯২। ফোনে তাদের বলা হতো তারা বড় অঙ্কের লটারি জিতেছেন। সেই টাকা পেতে গেলে একটি প্রসেসিং ফি দিতে হবে। মোটা টাকার লোভে অনেকেই সেই টাকা দিয়ে দিতেন। বিভিন্ন ভারতীয় ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে বলা হতো। সেই লটারির টাকা কোনও দিনই আসত না। দিল্লিতে চক্রের পান্ডা উমরকে গ্রেফতার করার পর জানা গেল চেক জালিয়াতির টাকা চলে যেত পাকিস্তান আর দুবাইয়ে। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, উমর এবং তার শাগরেদ গুড্ডুকে জেরা করে লটারি গ্যাং সম্পর্কেও বেশকিছু তথ্য মেলে। তদন্তে জানা যায়, অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার পরই তা অন্য একটিতে ট্রান্সফার হয়ে যেত। সেই সূত্র ধরেই গোয়েন্দারা জানতে পারেন, কয়েকটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে বড় অঙ্কের টাকা জমা হওয়ার পরই সেই টাকা ভারতের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাঠানোয় সাহায্য করছেন রাজেশ ঘোষ এবং বিধান কির্তনীয়া।
সিআইডি জানিয়েছে, সংস্থাটির সরাসরি কোনো যোগ ওই প্রতারণায় আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে ওই দুই ব্যক্তি গত কয়েক মাসে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা পাকিস্তানে পাচার করেছে। এই প্রতারণার পেছনে আইএসআই-ডি কোম্পানির যোগসাজশ উড়িয়ে দিতে পারছেন না গোয়েন্দারা। কারণ এর আগে মহারাষ্ট্রে এ রকমই একটি লটারি প্রতারণা সামনে এসেছিল যার পেছনে সরাসরি দাউদের ডি-কোম্পানির যোগ খুঁজে পেয়েছিলেন ইডির গোয়েন্দারা।
