হেফাজত নেতাদেরও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না
চট্টগ্রাম অফিস ও হাটহাজারী সংবাদদাতা
সম্প্রতি চট্টগ্রামে থানাসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হেফাজতে ইসলামের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার অগ্রগতি বিষয়ে তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ। এ ব্যাপারে থানা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি অথবা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ ব্যাপারে হেফাজত নেতাদের কাছ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের মামলায় গ্রেফতার এড়াতে এবং সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল হককে নিয়ে তোলপাড়ের ঘটনায় হেফাজত নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদির বাংলাদেশ সফরের প্রতিবাদে গত ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায় হেফাজতে ইসলাম। এসব ঘটনায় ৩০ মার্চ হাটহাজারী থানায় ছয়টি ও পটিয়া থানায় একটি মামলা হয়। এসব মামলায় ৪ থেকে ৫ হাজার জনকে আসামি করা হলেও হেফাজতের কোনো নেতাকর্মীর নাম এজাহারে ছিল না। এসব মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে হাটহাজারীতে চার জনকে গ্রেফতারের বিষয়টি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আফজারুল হক টুটুলের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে দৈনিক ইত্তেফাকের হাটহাজারী সংবাদদাতা গত শুক্রবার স্থানীয় থানায় গেলে তাকে কোনো ধরনের তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে থানার ডিউটি অফিসার বলেন, এগুলো স্পর্শকাতর মামলা। ‘ওপরের নির্দেশ’ ছাড়া কোনো তথ্য দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সময়ে তার পরামর্শ অনুযায়ী হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ জেলা পুলিশের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সরকারি মোবাইল ফোনে বেশ কয়েক বার কল করে এবং এসএমএস পাঠিয়েও কারো সাড়া পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ পর্যন্ত বেশ কয়েক জন গ্রেফতার হয়েছে বলে জানালেও তাদের মোট সংখ্যা জানাতে পারেননি। এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদীর মোবাইল ফোনে কল করা হলেও তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।
