খেতের ধান নষ্ট করায় এবং কিচিরমিচির শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে বাবুই পাখির ২০টি বাসা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ৩০টি পাখির বাচ্চা মেরে নিজের আক্রোশ মিটিয়েছে এক পাষণ্ড। এমন নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ইশ্বরকাঠি গ্রামে। গ্রামের ওয়াজেদ আলী সিকদারের ছেলে জালাল সিকদারের এই অপকর্মের ভিডিও ধারণ করে শনিবার সেটি ফেসবুকে পোস্ট করে দেয় এক ব্যক্তি। এমন ভয়াবহ নিষ্ঠুরতা দেখে চমকে যায় সবাই। এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসী জানায়, পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে পুড়ে যাওয়া পাখির বাচ্চা ও বাসাগুলো শনিবার দ্রুত সরিয়ে ফেলে জালাল সিকদার। ঘটনা সম্পর্কে নলছিটি উপজেলার নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদারকে অবহিত করা হয়েছে। জানা গেছে, বাবুই পাখির সঙ্গে এমন নিষ্ঠুরতার বিষয়টি যিনি ফেসবুকে তুলে ধরেছেন তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত শুক্রবার জুমার নামাজের আগে জালাল সিকদার একটি লম্বা বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে তাল গাছের একাধিক বাবুই পাখির বাসা ভেঙে ফেলে। এরপর বাঁশের মাথায় কাপড় পেঁচিয়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে বাসা এবং পাখির ছানা পুড়িয়ে দেয়। এই অমানবিক ও নির্মম ঘটনার সময় বাবুই পাখিরা আতঙ্কিত হয়ে দিগ্বিদিক ছোটাছুটি ও কিচিরমিচির শব্দ করছিল। ঐ তালগাছের নিচেই জালাল সিকদারের মুদির দোকান। জানা যায়, গাছটিতে প্রায় ৫০টি পাখির বাসা এবং প্রতিটিতেই বাচ্চা ছিল। জালাল সিকদার তার অপকর্মের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলে, ‘আমার খেতের প্রচুর ধান নষ্ট করে প্রতিদিন। এছাড়াও এসব বাবুই পাখির শব্দে আমি অতিষ্ঠ হয়ে এ ঘটনা ঘটালেও পরে বুঝতে পেরেছি এটা আমার ভুল হয়েছে। কিন্তু ঘটনাটি ভাইরাল করার মতো কিছুই ঘটেনি।’ জালাল সিকদারের বিরুদ্ধে গৃহপালিত পশুপাখিকে আক্রোশের জেরে নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। নলছিটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদার বলেন, বিষয়টি আমি জানতে পেরে থানার ওসিকে বলেছি ব্যবস্থা নিতে। ঐ ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা চলছে।
