২ এপ্রিল সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয় এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষা। এতে অংশ নেয় লক্ষাধিক শিক্ষার্থী। কিন্তু
সরকারি মেডিক্যালে আসনসংখ্যা মাত্র সাড়ে ৪ হাজার। তাই সিংহভাগ শিক্ষার্থীই পারে না মেডিক্যাল কলেজে
পড়ার আজন্ম লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে। তাই বলে জীবন তো থেমে থাকবে না। ভাগ্যকে মেনে নিয়ে এগিয়ে
যেতে হবে সামনের পথে। মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষায় আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ার আক্ষেপ যাদের, তাদের
জন্য দিকনির্দেশনামূলক কিছু কথা। লিখেছেন— মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর
হতাশ হওয়া যাবে না
এ সময়ে হতাশা কাজ করা স্বাভাবিক। কিন্তু মনে রাখতে হবে এডমিশন একটি ম্যারাথন দৌড়। হতাশা, দুশ্চিন্তা তোমাকে কেবলই পিছিয়ে ফেলবে লড়াইয়ের দৌড় থেকে। তাই নিজের সফলতার রাস্তা নিজেকেই তৈরি করে নিতে হবে। কারণ তোমার সফলতার অংশীদার সবাই হতে চায়, কিন্তু ব্যর্থতার দায় কেউ নিবে না। তাই হতাশা মুছে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবার জন্য প্রস্তুত হতে হবে এখনি।
পর্যাপ্ত সময় রয়েছে এখনো
সাধারণত মেডিক্যাল পরীক্ষার পর খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে মানসিক চাপ ও সেই চাপ সামলানোর প্রস্তুতি না থাকায় অনেকেই অর্জন করতে পারে না কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। কিন্তু এ বছর পর্যাপ্ত সময় রয়েছে নিজেকে পুনরায় গুছিয়ে নেবার। এই সময়টা শোককে শক্তিতে পরিণত করে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষাগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।
অবারিত সুযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে
মেডিক্যালে পড়া মানেই যেমন জীবন গড়ে যাওয়া নয়, তেমনি চান্স না পাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়। নিজেকে প্রমাণের অনেক সুযোগ রয়েছে, সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। আক্ষেপকে মনের মধ্যে পুষে না রেখে ফোকাস করো বিশ্ববিদ্যালয়ে। সুযোগ কাজে ঢাবি, রাবি ছাড়াও এবার ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা রয়েছে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনুষদগুলোতে পড়াশোনা করে উজ্জ্বল ভবিষ্যত্ গড়ার অপার সম্ভাবনার হাতছানি তোমার সামনে।
সম্ভাবনা রয়েছে প্রকৌশল ও কৃষিতে
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বাদে বাকি তিনটি প্রকৌশল ও দেশের সাতটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও এবার গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। দেশে ও বিদেশে এই দুইটি সেক্টরের গ্র্যাজুয়েটদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এমনকি উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপও অপ্রতুল নয়। শুধু সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং পরিকল্পনার যথাযথ বাস্তবায়নেই সম্ভব নিজেকে সফলদের কাতারে নিয়ে যাওয়া।
সর্বোপরি, করোনা মহামারির মধ্যে নিজেকে সুস্থ রেখে নিজেকে সফলতার সিঁড়িতে উঠে সব সমালোচনার জবাব দিতে নিজেকে উপযুক্তভাবে তৈরি করার দায়িত্ব তোমার। কারণ তোমার স্বপ্ন তোমার, তোমার পরিবারের কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।
