সম্প্রতি প্রকাশিত স্কুল ও কলেজের জন্য এমপিও নীতিমালা-২০২১ এ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষকদের জন্য ১০০ নম্বরের বিভিন্ন মানদণ্ড বা সূচকের ভিত্তিতে ৫০ শতাংশ পদোন্নতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঐ সূচকসমূহের মধ্যে এমফিল/পিএইচডির জন্য ৫ এবং জার্নালে প্রবন্ধের জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ। এটি একটি ইতিবাচক দিক হলেও ইন্টারমিডিয়েট কলেজের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদ কেড়ে নিয়ে তাঁদের সিনিয়র প্রভাষক হিসেবে নিচে নামিয়ে দেওয়ায় তাঁদের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করি। যদিও তাঁদের বেতনস্কেল সহকারী অধ্যাপকদের সমান রাখা হয়েছে, কিন্তু তাঁদের পদবি কেড়ে নেওয়ায় তাঁরা অপমানিত বোধ করছেন (যেহেতু সরকারি ইন্টারমিডিয়েট কলেজে এই নিয়ম নেই)। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী অধ্যাপক পদে অধিষ্ঠিত ডিগ্রি কলেজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও এমফিল/পিএইচডি ডিগ্রিধারী সিনিয়র শিক্ষকরা এমপিও নীতিমালায় জাতীয় শিক্ষা নীতির কৌশল মোতাবেক সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা না থাকায় হতাশ। প্রসঙ্গত, এমপিও নীতিমালা-২০১০ এ এমপিওভুক্ত ডিগ্রি কলেজে সহযোগী অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করা হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৮-এর নীতিমালায় তা বাতিল করা হয়। এর পর ঐ পদ আবার ফিরিয়ে আনার কথা বলা হলেও ২০২১-এর নীতিমালায় তা করা হয়নি। অথচ ডিগ্রি কলেজে সরকারিভাবে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর ওপর বাড়তি অর্থ প্রদানের দায়িত্ব অর্পণ করা যায়। অর্থাত্ সরকার এক্ষেত্রে শুষ্ক পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে। এক্ষেত্রেও অনুপাত প্রথার পরিবর্তে প্রভাষক পদের মতো বিভিন্ন মানদণ্ড বা সূচক অনুসরণ করা যায়। এর ফলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিকতা দূর করে শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর তথা সমতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাছাড়া মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী এর আগে প্রাইভেট-পাবলিক অংশীদারিত্বের কথা উল্লেখ করেছিলেন। আশা করি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমার এই প্রস্তাবটি বিশেষভাবে বিবেচনা করবে।
মো. মঈনুদ্দিন চৌধুরী
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান,
শংকুচাইল ডিগ্রি কলেজ, বুড়িচং, কুমিল্লা
