অর্থনীতি ঘুড়ে দাঁড়াতে শুরু করলেও অনিশ্চয়তা রয়েছে :বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২১, ২২:২৪

ইত্তেফাক রিপোর্ট

করোনার প্রভাবে স্থবির অর্থনীতি গত জানুয়ারি মাস থেকে গতি পেতে শুরু করেছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বাংলাদেশের সামনে বিরাট চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। করোনার প্রথম ধাক্কা সামাল দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যদিও সামনের দিনগুলোতে অর্থনীতিতে ব্যাপক অনিশ্চয়তা আছে।

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রকাশ উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ বার্নার্ড হেভেন প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অনিশ্চয়তা কতটা দীর্ঘায়িত হয়, এর ওপর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি নির্ভর করছে। লকডাউনের মতো কঠোর বিধিনিষেধে গরিব মানুষকে সহায়তা করাই বড় চ্যালেঞ্জ। গরিব মানুষকে চিহ্নিত করে তাদের সুরক্ষা দিতে হবে। এ ধরনের বিধিনিষেধে গরিব মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বিশ্বব্যংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবৃদ্ধি তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, টিকাদান কর্মসূচির গতি-প্রকৃতি; দ্বিতীয়ত, চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ বা লকডাউন, তৃতীয়ত, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কতটা হচ্ছে—তার ওপর। এগুলোর ওপর ভিত্তি করে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিমবন বলেন, সবুজ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির কৌশল ঠিক করতে হবে। করোনাকালে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সচল থাকা সম্ভব হবে। এছাড়া স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থা আধুনিক করতে হবে। তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে লকডাউনের মতো কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক খাতের মানুষ সবচেয়ে বেশি কাজ হারিয়েছে। এমন গরিব মানুষকে সুরক্ষা দিতে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি নগদ সহায়তা নিশ্চিত করা দরকার। তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। এ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের টিম কাজ করছে। তবে বাজেট সহায়তা প্রদানের বিষয়টি নির্ভর করে বাংলাদেশ আর্থিক খাতে কী ধরনের সংস্কার করছে, তার ওপর।