জামদানি শিল্পের হূতগৌরব পুনরুদ্ধার উদ্যোগ

রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন সপ্তাহব্যাপী জামদানি উত্সব

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:২৭

n  মাহমুদুল আমিন

 

জামদানি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ বয়ন-ঐতিহ্যের অংশ। নকশা আর বয়নকৌশলের জ্ঞানভাণ্ডার পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে এই শিল্পের হূতগৌরব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। তাই তো জামদানি শিল্পের ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার প্রয়াসে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে ‘জামদানি উত্সব’। বাংলাদেশ জাতীয় কারুশিল্প পরিষদের পরিকল্পনায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের আয়োজনে তিন সপ্তাহব্যাপী ‘জামদানি উত্সব’ শুরু হবে আগামী ১২ এপ্রিল। জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য এই উত্সবে থাকবে প্রদর্শনী, কর্মশালা, পুরস্কার প্রদান ও সেমিনার। জামদানির উন্নয়ন ও বিপণনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী চারটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করবে এই প্রদর্শনীতে। এগুলো হলো আড়ং, কুমুদিনী, টাঙ্গাইল শাড়ি কুটির ও অরণ্য। জামদানি উত্সবের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে গত ২৪ জানুয়ারি ধানমন্ডির বেঙ্গল বইয়ে আয়োজন করা হয় সংবাদ সম্মেলনের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদ, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন ও আয়োজন সংশ্লিষ্ট সবাই।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী পুরো আয়োজনটির খুঁটিনাটি তথ্য তুলে ধরেন স্লাইড শো প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে। এসময় তিনি বলেন, ‘প্রায় দুই বছরের প্রস্তুতির পর পর্দা উঠতে যাচ্ছে জামদানি উত্সবের। এই কাজটি আদৌ সম্ভব হবে কি না, সেটা নিয়ে শুরুতে সংশয়ে ছিলাম আমরা। আদিকালের জামদানির মতো নিখুঁত কাজ এখন আর করে না তাঁতিরা। এত টাকা দিয়ে কেউ জামদানি কিনতে চায় না বলে ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হতে চলেছে আমাদের ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন জামদানি। সেই সব বয়নশিল্পীদের নিয়ে কর্মশালা করেছি আমরা। তাদের বুঝিয়েছি আমরা কী হারাতে চলেছি। তাদের তাঁতি নয়, একজন শিল্পীর মর্যাদা দিয়ে অনুরোধ করেছি পুরোনো জামদানির আদলে নতুন করে জামদানি তৈরি করতে। শেষ পর্যন্ত তারা পেরেছে, আমরা পেরেছি।’ ফ্যাশন ডিজাইনার ও বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের নির্বাহী সদস্য চন্দ্রশেখর সাহা বলেন, ‘প্রথমে তাঁতিরা রাজি হচ্ছিল না পুরোনো মোটিফে জামদানি বুনতে। তারা বলছিল এত নিখুঁত কাজ কিভাবে সম্ভব? তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো পূর্বপুরুষদের কাজ না দেখেও তারা একদম একইভাবে বানাতে পেরেছে জামদানি। এসব জামদানি হাত দিয়ে ধরে দেখলে মনে হবে, জামদানি শিল্পীদের সারাজীবন ধরে কৃতজ্ঞতা জানালেও কম জানানো হবে! এত নিখুঁত কাজ, এত চমত্কার নকশা!’ টাঙ্গাইল শাড়ি কুটিরের স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ কারুশিল্প পরিষদের কোষাধ্যক্ষ মুনিরা এমদাদ সরকারকে অনুরোধ করেন জামদানি শাড়ির ওপর থেকে ভ্যাট সরিয়ে নিতে। তিনি বলেন, ‘মানুষ যত জামদানি শাড়ি কিনতে আগ্রহী হবে, এই শিল্পের সম্ভাবনা ততই বাড়বে।’ উল্লেখ্য, ১২ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত চলা জামদানি উত্সবে থাকবে পুরোনো জামদানির আদলে তৈরি করা নতুন জামদানি। দেশ ও দেশের বাইরের সাংগ্রহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো জামদানিও দেখতে পারবেন প্রদর্শনীতে আগতরা। কর্মশালা ও সেমিনারের পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ কারুশিল্পীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে আয়োজনে। এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে থাকছে জামদানির বাজারের প্রসার ও কারিগরদের সক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও কাজের উত্স চিহ্নিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগকে কাজে লাগানো।

ছবি তন্ময়