মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে সিন্ডিকেট গঠন করে গ্রাম্য সালিশের নামে চলছে কতিপয় ব্যক্তির রমরমা বাণিজ্য। বিচারের নামে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। জরিমানার টাকা প্রদান না করলে তার উপর নেমে আসে নানা ধরনের অত্যাচার। ভয়ে তারা কোথাও অভিযোগও করতে পারছে না।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত চলাকালীন বা মামলা বিচারাধীন সময়ও গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মিমাংসা করার চষ্টা চলে। সম্প্রতি নারী নির্যাতন এক মামলা সালিশের মাধ্যমে মিমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, উপজেলার উওর রৌহা গ্রামের মৃত নুয়ার আলীর ছেলে মো: আরশেদ আরী ওরফে ঠাকুর একই গ্রামের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও উত্ত্যক্ত করে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় ৪ মার্চ নিজ বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হলে লম্পট আরশেদ আলী পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাথরুমে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনায় ছাত্রীর মা বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের পর সালিশি সিন্ডিকেট মামলার বাদি ও আসামিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সহয়াতায় ভয়ভীতি দেখিয়ে আপসনামার নাম করে ১ লক্ষ ৮ হাজার টাকা জরিমানার নামে হাতিয়ে নেয়।
সোমবার (১২ এপ্রিল) রাতে থানার কথিত সোর্স ও দালাল এলাকার মাতাব্বর আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল মজিদ, ইয়ার খান ও মোস্তফা আরশেদ আলীর বাড়িতে প্রহশনের সালিশ বসায়। সালিশে স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগের মামলার আসামি মো: আরশেদ আলী ওরফে ঠাকুরকে এক লক্ষ ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্য বাদিকে ৪০ হাজার টাকা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক এস আই বিনয় সরকারকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি টাকা সোর্স ও দালালরা ভাগবাটরা করে নেওয়ার অভিয়োগ উঠেছে।
এ ব্যাপারে বিচারের মাতব্বর ইয়ার খান, আব্দুল মজিদের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তারা বিচারের কথা স্বীকার করেন। অপরদিকে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই বিনয় সরকারের সাথে যোগাযোগ করা করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আশরাফ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এসজেড
