লকডাউনের আগ মুহুর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজধানী ছাড়ছেন নগরবাসী

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:০৯

বুধবার (১৪ এপ্রিল) ভোর ৬টা থেকে ৭দিনের জন্য সারাদেশে শুরু হচ্ছে কঠোর বিধিনিষেধ। এ লকডাউনে সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার বিধিনিষেধ জারি করেছে সরকার। আর তাতেই লকডাউনের আগ মুহূর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজধানী ছাড়ছেন চাকরিজীবী ও খেঁটে খাওয়া শ্রমিকরা।    

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকাল থেকে ঈদের ছুটির মতো ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন তারা। এদিকে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন সেবা। রাজধানী সায়েদাবাদ, মহাখালী এবং গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায় প্রাইভেট কার, ট্রাক, মোটরসাইকেল এবং সিএনজি করে ঢাকা ছাড়ছেন ঘরমুখী এসব মানুষ। 

সন্ধ্যা ৭টায় গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায় পায়ে হেঁটে অনেকে পার হচ্ছেন বেড়িবাঁধ ব্রিজ। অনেকে আবার বাস টার্মিনাল থেকে কয়েকগুন অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে প্রাইভেট এবং মোটরসাইকেলে রওনা হচ্ছেন গন্তব্যে। আবার কেউ কেউ যাচ্ছেন ট্রাকে করে। 

রাজধানী একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকরি করেন আবুল কালাম। পরিবার নিয়ে যাচ্ছেন রংপুরে। ইত্তেফাক অনলাইনকে জানান, সরকারের পক্ষ থেকে যে কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা আরো বাড়াতে পারে তাই পরিবার নিয়ে ঢাকা ছাড়ছেন। তিনি বলেন, গত বছরের মতো এবারও যদি করোনা ভাইরাসের কারণে বিধিনিষেধ বাড়ানো হয় তাহলে অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হতে পারে। তাই পরিবার নিয়ে গ্রামে যাচ্ছি। 

স্বাস্থ্যবিধির কোন তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে প্রাইভেট কার। জানতে চাইলে প্রাইভেট কার চালক ইমতিয়াজ বলেন, রাস্তায় রাস্তায় পুলিশ আটকিয়ে দিচ্ছে, তাই টাকার জন্য দুই একজন বেশি যাত্রী নিচ্ছি। তবে ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি তার। 

প্রাইভেট কারা থাকা দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মিনিফা মিম বলেন, সাড়ে ৪শ টাকা দিয়ে সবসময় গেলেও আজকে ১৫০০ টাকা দিয়ে বাড়ি যাচ্ছি। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে কেন যাওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লকডাউনে অফিস বন্ধ থাকায় ঢাকা ছাড়ছেন তিনি। লকডাউনের সময় আরো বাড়ানো হলে কষ্টে দিন পার করতে হতে পারে বলেও জানান তিনি। 

এদিকে গাবতলি থেকে পাটুরিয়া ঘাট পর্যন্ত মোটরসাইকেলে একজনের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত। মোটরসাইকেল আরোহী মিজান বলছেন, বাস না থাকায় ১৫০ টাকার ভাড়া ১৫০০ টাকা দিয়ে যাচ্ছি। 

কেন যাচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনা রাজধানীতে যে হারে বাড়ছে তাতে যে কোন মুহুর্তে আক্রান্ত হতে পারি, তাই গ্রামে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ভালো। 

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ কমাতে বুধবার ভোর ৬টা থেকে ৭দিনের জন্য সারাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে সরকার। এসময় সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এছাড়া নগরীর গণপরিবহন এবং আন্তঃজেলার সব যানবাহন বন্ধ থাকবে। এছাড়াও অনুমতি ছাড়া বাসা থেকে কেউ বের হতে পারবেনা বলেও জানানো হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমইউএ/এসজেড