প্রথম

উপমহাদেশের প্রথম সংবাদপত্র

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৩৪

 

আমাদের এই উপমহাদেশে সংবাদপত্র প্রকাশনা শুরু হয়েছিল আজ থেকে দুই শ ঊনচল্লিশ বছর আগে— ২৯ জানুয়ারি ১৭৮০ সালে। দিনটি ছিল শনিবার। পত্রিকাটি ছিল সাপ্তাহিক। নাম ‘হিকি’জ বেঙ্গল গেজেট’। পত্রিকাটির মাস্টহেডের নিচে লেখা ছিল ‘অর দি অরজিনাল ক্যালকাটা জেনারেল অ্যাডভার্টাইজার’। পত্রিকাটি ভারত উপমহাদেশের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র। ইংরেজ জেমস অগাস্টাস হিকি ছিলেন একাধারে এই পত্রিকাটির মালিক, সম্পাদক ও প্রকাশক।

‘বেঙ্গল গেজেট’ আকারে ছিল বারো ইঞ্চি লম্বা, আট ইঞ্চি চওড়া ও পাতা ছিল দুটি। প্রতি পাতায় ছিল তিনটি কলাম। প্রথমদিকে ছাপা হতো ২০০ কপি। প্রথম সংখ্যাতেই পত্রিকাটি ঘোষণা করে—‘এটি একটি রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাপ্তাহিক, সকল দলের জন্য উন্মুক্ত কিন্তু কারো দ্বারা প্রভাবিত নয়।’

হিকি’র ‘বেঙ্গল গেজেট’ প্রকাশ করার পেছনে তখনকার গভর্নর জেনারেল পরিষদের অন্যতম সদস্য স্যার ফিলিপ ফ্রান্সিস-এর পরোক্ষ হাত ও পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। সম্ভবত ফ্রান্সিসের সহযোগিতায় হিকি সংবাদপত্র প্রকাশের অনুমতি লাভে সক্ষম হয়েছিলেন। হিকি-র গেজেট সবসময় হেস্টিংসের বিরুদ্ধে উচ্চকিত ছিল।

হিকি-র গেজেটের প্রতি হেস্টিংস বিরূপ থাকলেও ফ্রান্সিস যতদিন ভারতবর্ষে ছিলেন, হিকি-র বিরুদ্ধে তিনি কোনো দমনমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেননি। কিন্তু ফ্রান্সিস ভারতবর্ষ ছেড়ে যাবার পরপরই বেঙ্গল গেজেট সরকারের রোষানলে পড়ে। এবং বন্ধ হয়ে যায়।

মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে হিকি ছিলেন সোচ্চার ও আপসহীন। তিনি কারো মতের দ্বারা প্রভাবিত হননি এবং শেষ দিন পর্যন্ত কারো তোয়াক্কা না করে নিজের স্বাধীন মতামত ও নীতির প্রতি অবিচল থেকে পত্রিকা প্রকাশ করে গেছেন। তিনি সরকারের বহু নীতি ও কাজকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনামূলক সম্পাদকীয়, নিবন্ধ, ব্যঙ্গাত্মক রচনা প্রকাশ করছেন। যদিও নৈতিকতা এবং জনস্বার্থের কথা বিবেচনা করলে তাঁর পত্রিকার নীতি ও লেখা কতোখানি সঠিক কিংবা উপকারী ছিল সে সম্পর্কে বিতর্ক তোলা যেতে পারে। তবে শাসকের রক্তচক্ষু তাঁকে টলাতে পারেনি। সে বিচারে হিকি ছিলেন নিঃসন্দেহে সাহসী, আপসহীন ও সংগ্রামী সাংবাদিক। হিকি সম্পর্কে মার্গারিটা বানর্স তাঁর ‘দি ইন্ডিয়ান প্রেস : এ হিস্ট্রি অব দি গ্রোথ অব পাবলিক ওপিনিয়ন ইন ইন্ডিয়া’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘হিকির সাহস ছিল প্রচণ্ড এবং হারিয়েছেনও অনেক কিছু। কিন্তু তবুও তাঁর নামটুকু বেঁচে আছে।’

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে লেখাটির ইতি টানতে চাই। আর তা হলো এখনো এই পৃথিবীতে হিকি’জ বেঙ্গল গেজেট-এর চারটি পূর্ণাঙ্গ কপি টিকে আছে।