কোনো সাহিত্যের সমৃদ্ধির জন্য সবার আগে প্রয়োজন তার শেকড় অনুসন্ধান। সাহিত্যের অতীত সম্পর্কে জ্ঞানই পারে কোনো সাহিত্যকে শুদ্ধ এবং ঋদ্ধ করতে। সাহিত্যের সমালোচনা আমাদেরকে লোকসাহিত্যের সন্ধান দেয়। আর এ লোকসাহিত্যের একটি সমৃদ্ধ ধারা হচ্ছে গাথা সাহিত্য বা গীতিকা। বাংলা সাহিত্যের গীতিকা ইংরেজিতে BALLAD স্পেনীয় ভাষায় ROMANCE ডেনমার্কের ভাষায় VISE রুশ ভাষায় BYLINA ইউক্রেনের ভাষায় DUMI এবং সার্বিয়া এবং যুগোশ্লাভিয়ার ভাষায় JONAIKA PESMA. বরুণ কুমার চক্রবর্তী তাঁর ‘গীতিকা : স্বরূপ ও বৈশিষ্ট্য’ গ্রন্থে ইংরেজি BALLAD শব্দের আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে ইংরেজি BALLAD-কে বাংলায় ‘গীতিকা নামকরণ করেছেন ড. দীনেশচন্দ্র সেন। সুকুমার সেন বলেছেন ‘গাথা’। মযহারুল ইসলাম ব্যালাডের বাংলা করেছেন ‘লোক গীতিকা’ বা ‘লোকগাথা’। এই গাথা বা গীতিকা সম্পর্কে ড. আশরাফ সিদ্দিকী তাঁর ‘লোকসাহিত্য’ গ্রন্থে বলছেন—‘যাত্রাপালাকে যদি বলি রাজা রাজড়াদের খনিত দিঘী পুষ্করিণী, তবে গাথাগুলোকে বলতে হবে নিতান্তই প্রকৃতি সৃষ্ট সরোবর।’
গাথা বা গীতিকা মানেই প্রেম বিরহ দুঃখ জ্বালা। ইংরেজি ব্যালাডে প্রেমের সাথে থাকে অস্বাভাবিক কামনা ও প্রতিহিংসা। অবিবাহিতা নারী তার নবজাত সন্তানকে হত্যা করে। প্রতিহিংসায় প্রেমিক হত্যা করে প্রেমিকার আরেক প্রেমিককে। গর্ভবতী নারীকে হত্যা করে তার প্রেমিক অথবা একজন নারীকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় দুই ভাইয়ের মধ্যে। কিন্তু বাংলা গীতিকা এর ব্যতিক্রম। ড. মযহারুল ইসলাম তাঁর ‘ফোকলোর : পরিচিতি—পঠন ও পাঠন’ গ্রন্থে বলছেন—বাংলা গীতিকার অধিকাংশ কাহিনি প্রেম বিরহ মিলন কেন্দ্রিক। অস্বাভাবিক ঘটনার পরিণতিতে যে কি TRAGEDY সৃষ্টি হতে পারে, অধিকাংশ ইংরেজী BALLAD-এর মূল লক্ষ্য সেদিকে। বাংলা গীতিকায় তেমন TRAGEDY সৃষ্টি মূল লক্ষ্য নয়—যদিও ব্যর্থ এবং অভিশপ্ত প্রেমই গীতিকার উপজীব্য বিষয়।
চার খণ্ডে সম্পাদিত গীতিকার ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিচার করতে আমাদের একটু পেছন ফিরে তাকাতে হয়। খ্রিস্টীয় চতুর্থ শতাব্দীতে পূর্ব ময়মনসিংহ গুপ্ত সম্রাটদের অধীন ছিল। পরে এই প্রদেশ গুপ্ত শাসন থেকে আলাদা হয়ে কামরূপের শাসনে আসে। কামরূপ রাজ্যের রাজধানী প্রাগজ্যোতিষপুরের অবনতির পর পূর্ব ময়মনসিংহ কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজ্যে পরিণত হয়। কামরূপে তন্ত্রাধিকারের আগে হিন্দু ধর্মের যে আদর্শ ছিল, পূর্ব ময়মনসিংহ তা-ই গ্রহণ করেছিল। সেই হিন্দু ধর্ম উদার। তাতে বৌদ্ধ কর্মবাদ ও হিন্দু নিষ্ঠার অপূর্ব মিশ্রণ ছিল। তখন জাতিভেদ প্রথা কঠোর হয়ে ওঠেনি। নারীর স্বাধীনতা ছিল। তখন প্রেমে ব্যর্থ হয়ে হিন্দু নারীকে আজীবন কুমারী হয়ে থাকতে দেখা যায়—যেমন চন্দ্রাবতী। গীতিকার নারীরা প্রেমের টানে কুলধর্ম ত্যাগ করলেও নারীধর্মকে রেখেছে সমুন্নত।
কেদারনাথ মজুমদার (১৮৭৩—১৯৩০) সম্পাদিত সৌরভ পত্রিকায় চন্দ্র কুমার দে’র সংগৃহীত পালার ওপর একটি আলোচনা প্রকাশিত হয়। পূর্ববঙ্গের (মানিকগঞ্জ) সন্তান ড. দীনেশচন্দ্র সেন তা পড়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চন্দ্রকুমার দে-কে গাথা গীতিকার সংগ্রাহক নিয়োগ করেন। গীতিকা সংগ্রহকারীদের মধ্যে যাদেরকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে আশুতোষ চৌধুরী, কবি জসিমউদ্দীন, নগেন্দ্র চন্দ্র দে, বিহারী লাল রায়, মনসুরউদ্দীন, শিবরতন মিত্র প্রমুখ ছিলেন। ব্যক্তি উদ্যোগে গীতিকা সংগ্রহকারীদের মধ্যে পূর্ণ চন্দ্র ভট্টাচার্য এবং ক্ষিতিশ চন্দ্র মৌলিকের নাম উল্লেখযোগ্য। গীতিকার চারটি খণ্ড সংকলিত হয় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। পরে ড. আশরাফ সিদ্দিকীর সম্পাদনায় গীতিকার তিনটি খণ্ড প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে। চতুর্থ খণ্ড প্রকাশিত হয় ড. তসিকুল ইসলামের সম্পাদনায় ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা—চট্টগ্রাম নোয়াখালী’ নামে ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে। চারটি খণ্ডে আমরা মোট ৫৪টি পালা পাই। ১ম খণ্ডে আছে ১০টি পালা—মহুয়া, মলুয়া, চন্দ্রাবতী, দস্যু কেনারামের পালা, দেওয়ান ভাবনা, রূপবতী, কাজল রেখা, কংক ও লীলা, কমলা এবং দেওয়ানা মদিনা।
২য় খণ্ডের পালাগুলো হলো—ধোপার পাট, মঈষাল বন্ধু, কাঞ্চনমালা, শান্তি ও নীলা, ভেলুয়া, কমলা রাণীর গান, মানিক তারা ডাকাইতের পালা, মদন কুমার ও মধুমালা, সাঁওতাল হাঙ্গামার ছড়া, নেজাম ডাকাইতের পালা, দেওয়ান ঈশা খাঁ মসনদে আলা, সুরত জামাল ও অধুয়া সুন্দরী এবং ফিরোজ খাঁ দেওয়ান।
৩য় খণ্ডে ১১টি পালা—মাঞ্জুর মা, কাফন চোরা, ভেলুয়া, হাতি খেদা, আয়না বিবি, কমল সদাগর শ্যাম রায়, চৌধুরীর লড়াই, গোপিনী কীর্তন, সুজা তনয়ার বিলাপ এবং বার তীর্থের গান।
১৯টি পালা নিয়ে সম্পাদিত গীতিকার ৪র্থ খণ্ডটি। এ খণ্ডে পাই নছর মালুম, শীলা দেবী, রাজা রঘুর পালা, নূরুন্নেহার ও কবরের কথা, মুকুট রায়, ভারইয়া রাজার কাহিনী, আন্ধা বন্ধু, বগুলার বারমাসী, চন্দ্রাবতীর রামায়ণ, সন্নমালা, বীর নারায়ণের পালা, রতন ঠাকুরের পালা, পীর বাতাসী, রাজা তিলক বসন্ত, মলয়ার বারমাসী, জিরালনী, পরীবানুর হাঁহলা, সোনা রায়ের জন্ম এবং সোনা বিবির পালা।
এ পালাগুলোর ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিচারে দেখা যায়, এর কোনো কোনোটির পেছনে কিছুটা ইতিহাস, কিছুটা জনশ্রুতি এবং কবির আবেগ কাজ করেছে। নিরক্ষর অথবা অর্ধশিক্ষিত পালাকারদের মুখে মুখে রচিত এসব পালাগানের সবগুলির ভৌগোলিক অবস্থান বা ইতিহাস পাওয়া যায় না। যেসব পালার ঘটনাস্থল সম্পর্কে আমরা জানতে পারি, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘চন্দ্রাবতী’। কবি চন্দ্রাবতীর বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার পাতুয়ারী গ্রামে ফুলেশ্বরী নদীর তীরে ‘ধারা স্রোতে ফুলেশ্বরী নদী বয়ে যায়’। মলুয়া পালার ‘ধলাই বিল’ কিশোরগঞ্জের জাহাঙ্গীরপুর গ্রাম থেকে ২৬ মাইল উত্তর-পশ্চিমে আর আরালিয়া গ্রাম থেকে ৩০ মাইল উত্তরে ‘বিস্তর ধলাই বিল পদ্ম ফুলে ভরা’। নেত্রকোনা জেলার কাহিনি ‘মহুয়া’। খালিয়াজুরি থানার নিকট রহমতপুরের ১৫ মাইল উত্তরে ‘তলার হাওড়’ নামে বিস্তৃত হাওড়। এর পূর্বে বামনকান্দি, বাইদ্যার দিঘি, ঠাকুর বাড়ির ভিটা, উলুয়াকান্দি প্রভৃতি জনমানবশূন্য জায়গা—‘ভালা কইরা বান্দে বাড়ি উলুইয়া কান্দা গিয়া’। মহুয়ার বাপের বাড়ি কাঞ্চনপুর ধনু নদীর তীরে। ‘কমলা’ পালার হুলিয়া গ্রাম পাওয়া না গেলেও হালিয়ারা বা হালিয়াঘাট নামে গ্রাম আছে কিশোরগঞ্জে—‘হুলিয়া গেরাম ভাই রে দেখিতে সুন্দর’।
নেত্রকোনার ১০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে আছে ‘বাঘরার হাওড়’। এই বাঘরাকে গুপ্তচর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল দেওয়ান। গেরস্ত বাড়ির সুন্দর বৌ-ঝিদের খবর জানাত বাঘরা। প্রয়োজনে এই হতভাগী নারীদের অপহরণেও সাহায্য করত। দস্যু কেনারামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের বাকুলিয়া গ্রামে—‘জালিয়া বন্দের পাড়ে বাকুলিয়া গ্রাম’। নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার বিপ্রবর্গ বা বিপ্র গ্রামে ছিল কংকের বাড়ি—‘বিপ্রপুরে ছিল এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ। ভিক্ষাবৃত্তি করি করে জীবন পালন।।’। বিপ্রবর্গের নিকট ধলেশ্বরী বিলের কাছে এখনো পাঁচ পীরের একটি জায়গা আছে। সেখানে ‘পীরের পাথর’ নামে একটা পাথর আছে। ‘কংক ও লীলা’ পালার পীর এখানেই আস্তানা পেতেছিলেন। ‘দেওয়ানা মদিনা’ বানিয়াচঙ্গের (হবিগঞ্জ) দেওয়ানদের গাথা—‘আর নাইসে গেল মিঞা বান্যাচঙ্গ শরে। আখের গনিয়া দেখে কয়বর উপরে।।’। সুরত জামাল এবং অধুয়া সুন্দরীর কাহিনিও হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচঙ্গ গ্রামের।
ঈশা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত জঙ্গলবাড়ি কিশোরগঞ্জে অবস্থিত—‘দেখিয়া সবার মনে খুশি হইল ভারী। তারপরে কোশাত চড়্যা যায় জঙ্গলবাড়ি।।’ দেওয়ান ঈশা খাঁর রাজধানী সোনারগাঁও অবস্থিত নারায়ণগঞ্জে। জঙ্গলবাড়ির দেওয়ান বাড়ি ধ্বংসপ্রায়। ঈশা খাঁর আমলের একটি মসজিদ এখনো অক্ষত আছে জঙ্গলবাড়িতে। ঈশা খাঁর নাতি ফিরোজ খাঁর স্ত্রী সখিনার বাড়ি কেল্লা তাজপুর—‘পরের দিনেতে সাহেব ফৌজ যে লইয়া। কেল্লা তাজপুর শরে মিঞা দাখিল হইল গিয়া।।’ এ বাড়িটিতে সখিনার পিতা দেওয়ান উমর খাঁর কোনো স্মৃতি আজ আর অবশিষ্ট নেই। কেল্লা তাজপুরের পাশের গ্রাম কুমড়িতে বীরাঙ্গনা সখিনার মাজার আছে। ময়মনসিংহ জেলার সুরিয়া নদীর পূর্বে কুমড়ি গ্রাম আর পশ্চিমে কেল্লা তাজপুর। ‘বার তীর্থ’ টাঙ্গাইল জেলার মধুপুরে, যেটি একসময় মোমেনশাহী পরগণার জোয়ানশাহীর অন্তর্ভুক্ত ছিল—‘বঙ্গদেশে জঙ্গল রে ভাই নইসুরা বাজের জেলা। জয়ানশাহীর গড়ে বইস্যাছে বার তীর্থের মেলা।।’ পালায় বর্ণিত সুষঙ্গ দুর্গাপুর নেত্রকোনা জেলায় অবস্থিত। কমলা রাণীর সাগর দিঘির একটি অংশ এখন সোমেশ্বরী নদীর গর্ভে—‘ভাটি ছিল সোমাই নদী উজান বহিয়া না যায়। পানির ফেনা উঠলো দেখ গাছের আগায়।।’
‘শহর চট্টগ্রামের ইতিকথা’ গ্রন্থে আব্দুল হক চৌধুরী জানাচ্ছেন— চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ভেলুয়া সুন্দরীর দিঘি অবস্থিত। ঘটনাটি গৌড়ের সুলতান নসরত শাহের সময়ের। আড়াই চান সদাগরের ছেলে ছিল আমীর সদাগর। ভেলুয়াকে একসময় অপহরণ করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে নসরত শাহ অপহরণকারীদের শিরঃশ্ছেদ করান। তিনি একটি দিঘি খনন করিয়ে নাম রাখেন ‘ভেলুয়া সুন্দরীর দিঘী’। ‘শেখ ফরিদের চশমা’ বলা হয় চট্টগ্রামের একটি ঝরনাকে—‘শেখ ফরিদ নামে ফকির আছিল একজন। গহীন কাননে থাকি করিত ধেয়ান।।’।
‘কাফন চোরা’ পালার গজালি গ্রামের বর্তমান নাম গজালিয়া। চিন্তাপুরের বর্তমান নাম নিচিন্তাপুর। কুম্মাই নদীর তীরে অবস্থিত চিন্তাপুর। রাঙ্গুনিয়া থানার অন্তর্গত চিন্তাপুর এবং কুম্মাই নদী। ঠেগা নদী কর্ণফুলির একটি শাখা—‘ঠেগার ছড়া এরি চালে কাঁইচা খালে পৈল’। ‘নছর মালুম’ পালার দিয়াঙ্গের পাড়ির আধুনিক নাম দেয়াঙ্গের বন্দর। পর্তুগিজরা এই বন্দরকে ডায়াঙ্গ বলত। গোবধ্যার চর কর্ণফুলির মোহনার কাছে। পরীদিয়া বা শাহপরী দ্বীপ চট্টগ্রামের দক্ষিণে প্রায় দেড়শত মাইল দূরে—‘এখিনের কাছে যাইয়া কহিল নফর। মাসেকের লাগি যাইয়ম পরীদিয়ার চর।।’।
‘পরীবানুর হাঁহলা’য় মোগল শাহজাদা সুজার কথা আছে। আরাকানের সুধর্ম নরপতির রাজধানী ছিল মেয়ং। সেখানে এখনো সুজার মসজিদ এবং সুজার দিঘি আছে। আমরা এই আরাকান রাজের কথা পাই ‘সুজা তনয়ার বিলাপ’ পালাতেও, যাকে বলা হয়েছে মগরাজা।
ষোড়শ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যে রচিত এসব পালাগানের অনেকগুলোর রচয়িতার নাম পাওয়া যায় না। সংগ্রহকারীরা বিভিন্ন গায়কদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন সেগুলো। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পালাগুলো প্রকাশিত হয়। ড. দীনেশচন্দ্র সেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্পাদনা করে প্রকাশ করেন ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’। মৈমনসিংহ গীতিকা ছাড়া ত্রিপুরা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম প্রভৃতি অঞ্চল থেকে মূলত আশুতোষ চৌধুরী সংগৃহীত গীতিকাগুলি দীনেশচন্দ্রের সম্পাদনাতেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘পূর্ববঙ্গ গীতিকা’ নামে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীকালে দীনেশচন্দ্রের সম্পাদনায়ই গীতিকাগুলি ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে ‘EASTERN BENGAL BALLADS, MYMENSINGH’ নামে প্রকাশিত হয়।
এসব পালার ইতিহাস আলোচনা করলে দেখা যায়, এর অনেকগুলোর যেমন ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই, তেমনি নেই এর ভৌগোলিক অবস্থান। তবু যে পালাগুলোর ঐতিহাসিক এবং ভৌগোলিক অবস্থান আছে, তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত—এ ব্যাপারে আরো গবেষণা প্রয়োজন।
