মূল জেমস বাল্ডউইন অনুবাদ : কাজী আখতারউদ্দিন
ম্যাসিডনের রাজা আলেকজান্ডার একের পর এক দেশ জয় করার পর অবশেষে দূরপ্রাচ্যে নতুন একটি দেশে এলেন। সেদেশের জনগণ যুদ্ধবিগ্রহ কী তা জানত না। ধনী হলেও ওরা সাধারণ জীবনযাপন করত আর সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখত।
সে দেশের রাজা এগিয়ে এসে আলেকজান্ডারকে স্বাগত জানিয়ে রাজপ্রাসাদে তার সঙ্গে নৈশভোজের জন্য অনুরোধ জানালেন।
যখন তারা খেতে বসলেন তখন পরিচারকরা বিভিন্ন ফলফলাদি, পেস্তাবাদাম, কেক আর অন্যান্য সুখাদ্য নিয়ে এল; তবে আলেকজান্ডার খাবার মুখে তুলতে গিয়ে দেখলেন সবকিছু সোনার তৈরি।
তিনি হতবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এ কী! আপনাদের দেশে কি আপনারা সোনা খান?’
রাজা উত্তর দিলেন, ‘আমরা সাধারণ খাবারই খাই। তবে আমরা শুনেছি, সোনার জন্যই আপনি নিজ দেশ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন; আর তাই আমরা আপনার সোনার খিদে মিটাতে চেয়েছি।’
আলেকজান্ডার বললেন, ‘আমি সোনার জন্য এখানে আসিনি। আপনার দেশের মানুষের সামাজিক রীতিনীতি শিখতে এসেছি।’
রাজা বললেন, ‘খুব ভালো। তাহলে আমার সাথে কিছুক্ষণ থেকে দেখুন।’
আলেকজান্ডার আর রাজা যখন কথা বলছিলেন, তখন সেদেশের দুজন লোক এল। একজন বলল, ‘প্রভু, আমাদের মধ্যে একটা মতানৈক্য হয়েছে আর তার মীমাংসার জন্য আপনার কাছে এসেছি।’
রাজা বললেন, ‘ঘটনাটা খুলে বল।’
লোকটি উত্তর দিল, ‘আমি ন্যায্য দামে আমার এই প্রতিবেশীর কাছ থেকে এক খণ্ড জমি কিনেছি। গতকাল মাটি খুঁড়তে গিয়ে এক ঘড়া সোনা আর ধনরত্ন পেলাম। এই সম্পদ আমার নয়, কেননা আমি কেবল জমিটাই কিনেছি। কিন্তু যখন তাকে এগুলো দিতে চাইলাম, তিনি তা নিতে রাজি হলেন না।’
দ্বিতীয় ব্যক্তি বলল, ‘এটা সত্য আমি জমি বিক্রি করেছি, তবে জমি খুঁড়ে তিনি যা পেয়েছেন, তার দাবিদার আমি হতে পারি না। এই সম্পদ আমার না, তাই আমি এটা নিতে অস্বীকার করেছি।’
রাজা কিছুক্ষণ নীরবে ভাবলেন। তারপর প্রথম লোকটিকে বললেন, ‘তোমার কোনো ছেলে আছে?’
লোকটি উত্তরে বলল, ‘আমরা একটি উপযুক্ত ছেলে আছে।’
তারপর রাজা দ্বিতীয় লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার কোনো মেয়ে আছে?’
লোকটি উত্তর দিল, ‘হ্যাঁ, মহামান্য, আমার একটি সুন্দর মেয়ে আছে।’
‘ঠিক আছে, তাহলে আমার সিদ্ধান্ত হচ্ছে, ছেলেটির সাথে মেয়েটির বিয়ে দাও, যদি ওরা রাজি থাকে। তারপর বিয়ের উপহার হিসেবে রত্ন আর সোনার বাক্সটা ওদেরকে দাও।’
আলেকজান্ডার খুব আগ্রহ নিয়ে ঘটনাটা শুনলেন, তারপর তিনি রাজাকে বললেন, ‘আপনি অত্যন্ত বিজ্ঞের মতো সঠিক বিচার করেছেন। তবে আমার দেশে আমরা ভিন্নভাবে বিচারটা করতাম।
‘আপনারা কী করতেন?’
‘দুই জনকেই কারাগারে পাঠাতাম। আর সম্পদটা রাজকোষাগারে চলে যেত।’
রাজা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আর এটাই আপনাদের ন্যায় বিচার?’
আলেকজান্ডার বললেন, ‘আমরা এটাকে বলি রাজ্যশাসননীতি।’
রাজা বললেন, ‘আচ্ছা একটা প্রশ্ন করতে পারি কি? আপনার দেশে কি সূর্য কিরণ দেয়?’
‘অবশ্যই।’
‘বৃষ্টি পড়ে?’
‘হ্যাঁ, পড়ে!’
‘এও কি সম্ভব! আচ্ছা আপনাদের মাঠে-ময়দানে কি শান্ত, নিরীহ গবাদিপশু চরে বেড়ায়?’
‘হ্যাঁ, প্রচুর।’
তখন রাজা বললেন, ‘তাহলে সূর্য কিরণ দেয় আর বৃষ্টি পড়ে এই নিরীহ প্রাণীগুলোর জন্যই। কেননা এমন অন্যায্য মানুষেরা কখনো এধরনের আশীর্বাদ পেতে পারে না।’
