কোয়ার্টার গেরো খুলল সিটি

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২১, ২২:০২

ম্যান সিটি   ২-১  ডর্টমুন্ড

ডর্টমুন্ড       ১-২  ম্যান সিটি

 স্পোর্টস ডেস্ক

ঘরের মাঠে চাই জয়—চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চার নিশ্চিত করতে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে অন্য কোনো বিকল্পই ছিল না বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের সামনে। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফিল ফোডেনের শেষ সময়ের গোলে ১-২ গোলে হেরে এসেছিল ডর্টমুন্ড। অবশ্য আট বছর পর আসরের সেমিফাইনাল নিশ্চিতের জন্য চাওয়া সেই জয় দ্বিতীয় লেগে পায়নি ডর্টমুন্ড। উলটো ইদুনা পার্কে বুধবার রাতে দ্বিতীয় লেগের দেখায় আবার সিটিজেনের কাছে ঐ ১-২ ব্যবধানেই হেরেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিল ডর্টমুন্ড।

ইতিহাদ থেকে হেরে ফিরলেও, ডর্টমুন্ডের একটি এওয়ে গোল ছিল। বুধবার রাতে প্রথমার্ধ পর্যন্ত মার্কো রেউসের সেই এওয়ে গোল ডর্টমুন্ডের কাজে আসবে বলে মনেও হচ্ছিল। কেননা ম্যাচের ১৫ মিনিটেই তরুণ জুড বেলিংহামের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল ডর্টমুন্ড। ডি-বক্সে বল পেয়ে দারুণ নিয়ন্ত্রণে ডান পায়ের জোরালো শট গোলরক্ষক এডারসনকে পরাস্ত করেন বেলিংহাম। তাতে স্কোরলাইনে ফেরে সমতা, আর এওয়ে গোলের সুবিধায় শেষ চারের অপেক্ষায় তখন ডর্টমুন্ড।

তবে কারিকারি টাকা খরচ করে দল বানানো সিটি এদিন ছিল অদম্য। এওয়ে গোলের হিসেবে ম্যাচে পিছিয়ে পড়তেই ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। সাঁড়াশি আক্রমণে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে স্বাগতিক দলের রক্ষণভাগ। তার ফলও পায় সিটি। বিরতি থেকে ফিরতেই ম্যাচে সমতা ফেরায় অতিথিরা। তাতে অগ্রগামিতায়ও এগিয়ে যায় সিরিজেনরা। ৫৩ মিনিটে ডি বক্সে এমরে চানের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। জুভেন্টাস থেকে ডর্টমুন্ডে আসা এই মিডফিল্ডার সেই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে প্রতিবাদ করলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তাও দেখা যায় সেটা হ্যান্ডবলই ছিল। চানের সেই ভুল থেকে পাওয়া পেনাল্টি থেকে সিটিকে ম্যাচে ফেরায় রিয়াদ মাহরেজ। জোরালো শটে ডর্টমুন্ড কিপার মারউইন হিত্জকে পরাস্ত করেন এই আলজেরিয়ান ফরোয়ার্ড।

আর ডর্টমুন্ডকে বিদায়ের টিকিট ধরিয়ে দেন প্রথম লেগের নায়ক ফিল ফোডেন। ৭৪ মিনিটে কেভিন ডি ব্রুইনা প্রায় একাই এগিয়ে দিচ্ছিলেন সিটিকে। বল নিয়ে একাই পৌঁছে গিয়েছিলেন গোল করার খুব কাছে। কিন্তু সেটি কর্নারের বিনিয়মে রক্ষা করেন ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক। সেই কর্নার থেকেই ফোডেন জয়সূচক গোলটি করেন। ফিরতি কর্নার থেকে ফিল ফোডেন বাঁ পায়ের তীব্র শট পোস্টে লেগে ঢুকে যায় ডর্টমুন্ডের গোলে। আর ঐ গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় সিটির সেমিফাইনাল।

ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্ব চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা ঘরে তুলতেই পেপ গার্দিওলাকে কোচ করে এনেছিল সিটিজেনরা। তবে নামি এই কোচের অধীনে গেল তিন মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় সিটিকে। গার্দিওলার কোচিংয়ে চতুর্থবার এসে শেষ আটের গেরো খুলে সেমিতে উঠল সিটি। সেটা আবার অনেকটা ২০ বছরের তরুণ ফোডেনেরই কল্যাণে। দুই লেগেই ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড করেছেন। সিটিকে সেমির টিকিট এনে দেওয়া ফোডেনের প্রতি ম্যাচ শেষে তাই কৃতজ্ঞতা ঝরল গার্দিওলার, ‘ফোডেন কোয়ার্টার ফাইনালের দুই লেগে দুটি গোল করে আমাদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে দিয়েছে। সে খুবই প্রতিভাবান এবং সৃষ্টিশীল ফুটবলার। সব সময়ই মাঠে নতুন কিছু করতে চায়। সে আক্রমণভাগে যেমন দুর্দান্ত। রক্ষণেও সে একই ধরনের কার্যকর। ছোট জায়গাতে তো সে রীতিমতো অবিশ্বাস্য।’

সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি খেলবে ফরাসি জায়ান্ট পিএসজির বিপক্ষে। গত মঙ্গলবার রাতে আসরের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ০-১ গোলে হারে পিএসজি। দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধানটা ৩-৩ হলেও,  এওয়ে গোলের সুবাদে টানা দ্বিতীয় মৌসুমে আসরের সেমিতে ওঠে নেইমার-এমবাপ্পের পিএসজি। আগামী ২৮ এপ্রিল রাতে পার্ক দে প্রিন্সেসে প্রথম লেগের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে ইউরোপের অন্যতম ধনী এই দুই ক্লাব।