টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে দুই ট্রাক খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচারের ঘটনায় খাদ্য পরিদর্শক (ওসিএলএসডি) বেলাল হোসেন ও গুদামের নৈশপ্রহরী আল আমীনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় চালবোঝাই একটি ট্রাক জব্দ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত আরেকটি ট্রাকযোগে (ঢাকা মেট্রো ট-৬১-৬১৫১) পাচার হওয়া ৩৬০ বস্তা চালের সন্ধান পায়নি কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শিয়ালকোল এলাকার খাদ্যগুদাম থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুক্তা রানী সাহা বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় খাদ্য পরিদর্শক, নৈশপ্রহরী ও অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত দুই জনকে বুধবার দুপুরে টাঙ্গাইল কোর্ট হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভূঞাপুর খাদ্যগুদামের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম ধাপে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল ট্রাকযোগে পার্শ্ববর্তী ঘাটাইলের হামিদপুরের একটি রাইস মিলে বিক্রির জন্য পাঠানো হয়। পরে আবার বিকালে আরেকটি ট্রাকে চালবোঝাই করা হয়। ট্রাকটিতে ২৮০টি বস্তায় ১৪ মেট্রিক টন চাল ছিল। তবে ঐ চাল উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের ডিলার ও আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, দিলীপ এবং অর্জুনা ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব ডিলার সাখায়াত হোসেন লেবুর রেখে যাওয়া চাল ছিল বলে দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর চিঠি দিয়েছে গুদামের খাদ্য পরিদর্শক। এছাড়া খাদ্যগুদামের নৈশপ্রহরীও লিখিত জবাব দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মাঝেমধ্যেই সরকারি চাল এভাবে ট্রাক ও ছোট ছোট ট্রলিযোগে পাচার হয়। ডিলাররা তাদের বরাদ্দকৃত চাল সুবিধাভোগীদের মধ্যে বিতরণ না করে সেগুলো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন রাইস মিলে বিক্রি করে দেয়।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মুক্তা রানী সাহা বলেন, পাচার হওয়া এবং জব্দ হওয়া চাল গত মার্চ মাসে খুলনা থেকে ভূঞাপুর গুদামে আসে। চালগুলো বরাদ্দের জন্য এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। এর মধ্যেই উনি (খাদ্য পরিদর্শক) কীভাবে চাল পাচার করছেন সেটা জানা নেই আমার। এ বিষয়ে দুই জনের নামসহ অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার ওসি মো. আব্দুল ওহাব বলেন, মামলাটি দুদক সংশ্লিষ্ট হওয়ায় জেলা দুদক সমন্বয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ইশরাত জাহান বলেন, পাচার হওয়া চালভর্তি আরেকটি ট্রাকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের পর দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
