যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করার চাপে রয়েছে চীন

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:১২

চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হয়েছিল সেটা সাময়িকভাবে রুদ্ধ আছে। কিন্তু এ সপ্তাহেই দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা বাণিজ্য চুক্তিতে আসতে ক্রমাগত চাপের মুখে পড়ছে বেইজিং।

বাণিজ্য যুদ্ধ চীনের অর্থনীতিকে হয়ত মন্দার দিকে নিয়ে যাবে না কিন্তু এটা অবশ্যই পরিস্থিতিকে  নিয়ে যাবে খারাপের দিকে। গ্রোথ ডাটা গত সপ্তাহে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ১৯৯০ সালের পর এটাই চীনে সবচেয়ে কম গ্রোথ রেট। কিন্তু এটাও ততটা চিন্তার বিষয় না। যতটা না অন্য তথ্যগুলো দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে।

এর ফলে ক্রেতা বা ভোক্তাদের অনুভূতি এবং খুচরা বিক্রি খুব দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ছে। ছোট এবং মাঝারি ধরনের কোম্পানিগুলো কম অর্ডার এবং মজুদের ব্যাপারে সেই ধাক্কাটা বুঝতে পারছে। আর এই চাপটা কমিউনিস্ট পার্টির ওপর পড়ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং যে এই বিষয়ে খুব কম নজর দিয়েছেন সেটাই প্রতিফলিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং-এর বৈধতার ভিত্তি হলো চীনকে শক্তিশালী রাখা।

এদিকে একটা চুক্তি করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপের মধ্যে রয়েছে। চীনে যেসব যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি রয়েছে— তাদের ব্যবসার ওপর ট্রাম্প প্রশাসন যে শুল্ক আরোপ করেছে, তার প্রভাব নিয়ে অভিযোগ আছে। কিন্তু তারা চাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র যেন একটা ভালো চুক্তি করে। ওয়াশিংটন ডিসির আকিন গাম্প নামে একটি ল’ ফার্মের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড পার্টনার স্টেফেন খো বলেছেন, এই প্রশাসন শুল্কের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে রাজি আছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের মধ্যে চুক্তি হলে সেটা সবার জন্য ভালো হবে। যতদিন এই পরাশক্তি একে অপরের পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করতে থাকবে ততই ভোক্তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে। কোম্পানিগুলো কম লাভ করবে। আর বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যাবে। উভয়পক্ষই একটা চুক্তি করে সমাধানে আসতে এখন চাপের মধ্যে আছে।