আমাদের দেশের রাবার শিল্প ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিতে রাবারশিল্প ইতিমধ্যে বিশেষ অবদান রাখতে শুরু করেছে। দেশের রাবার শিল্পমালিকরা এখন সমন্বিত রাবার চাষের (বনজ, ফলদ, পশু পালন, পর্যটন) দিকে ঝুঁকছেন। দেশে উত্পাদিত উন্নত মানের রাবার দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে রাবার চাষ হচ্ছে। এসব স্থানের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের রামু, রাউজান, ডাবুয়া, হলুদিয়া, কাঞ্চননগর, তারাখো, দাঁতমারা, সিলেটের ভাটেরা, সাতগাঁও, রূপাইছড়া, শাহাজী বাজার, ময়মনসিংহের মধুপুর, শেরপুর, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। সারা দেশে ১ হাজার ৩০৪টি বেসরকারি রাবার বাগান রয়েছে।
সারা দেশে বেসরকারিভাবে ৩২ হাজার ৬২৫ একর জমিতে রাবার চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি বাগানে ২৪ হাজার মেট্রিক টন রাবার উত্পন্ন হচ্ছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ৬০০ কোটি টাকা। ২০১২ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায় বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে রাবারের চাহিদা ৩ শতাংশ হারে বেড়েই চলেছে। যার চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৭ শতাংশ। বর্তমানে রাবার দিয়ে সারা বিশ্বে ১ লাখ ২০ হাজার ধরনের দ্রব্যসামগ্রী তৈরি হচ্ছে। রাবার দিয়ে প্রধানত গাড়ির চাকার টায়ার, টিউব, জুতার সোল, সেন্ডেল, ফোম রেক্সিন, হোসপাইপ, গাম, খেলনা, শিল্প কারখানার দ্রব্যসামগ্রী চিকিত্সাশাস্ত্রের বিভিন্ন সামগ্রীসহ গৃহস্থালি কাজের ব্যবহূত বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ রাবার চাষে নবীন হলেও এর ভূপ্রকৃতি, জলবায়ু, পরিবেশসহায়ক ও আর্থসামাজিক প্রয়োজনে রাবার চাষের গুরুত্ব অপরিসীম। রাবারবাগান মালিকদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমানে প্রতি বাগানে ২৫ একর জায়গায় রাবার চাষ করা হচ্ছে। সেখানে এর পরিধি বৃদ্ধি করে ১০০ একর করতে হবে। তাছাড়া আমাদের দেশের যেসব স্থানে এখানো পর্যন্ত রাবার চাষ করা হয়নি সেসব স্থানে রাবারবাগান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। রাবার প্রসেসিং করার জন্য পৃথক পৃথক উন্নত প্রসেসিং প্ল্যান্ট সরকারি উদ্যোগে স্থাপন করতে হবে। এতে করে রাবারের উত্পাদন বৃদ্ধি পাবে এবং মানসম্মত রাবার পাওয়া যাবে। রাবার গাছকে প্রক্রিয়াজাত করে মূল্যবান আসবাবপত্র তৈরির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে। রাবারশিল্পের সঙ্গে রাবার গাছের কাঠও দেশের জন্য বিশাল সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারে।
