স্বপ্রণোদিত হয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ১৩:১৫

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আহমেদ সাঈদ বুলবুল, যশোর অফিস

দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু করে আর্থিক সংকটে পড়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনোম সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহায়তা কামনা করেও কোনো সদুত্তর মেলেনি।

সূত্র জানায়, গত বছরের ১৭ এপ্রিল যবিপ্রবির জেনোম সেন্টারে করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ শুরু হয়।  এক বছরে প্রায় ৩৭ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। নমুনা পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত আরএনএ কিট, পিপিইসহ ব্যবহার্য সামগ্রী পর্যাপ্ত না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ খাতে বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও খরচ করে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অনুজীব বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, আমরা পরীক্ষার জন্য নমুনাপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা চেয়েছিলাম। ১০০ টাকা করে বরাদ্দও হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রায় ৩৫ হাজার নমুনা পরীক্ষার জন্য আমরা সরকারের কাছে ৩৫ লাখ টাকা পাব। এ টাকা পেলে আরো এক বছর ল্যাব চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। তিনি আরো জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গত বছরের কিছু অব্যবহূত গবেষণা তহবিল এবং এ বছরের বিশেষ বরাদ্দ থেকে জেনোম সেন্টারের ব্যয় নির্বাহ করা হচ্ছে। সরকারি বরাদ্দের অর্থ পেলে গবেষণার কাজ আরো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মত দেন।

সূত্র আরো জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গত এক বছর ১৬ জন শিক্ষক, ২৯ জন কর্মচারী ও ৪২ জন শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রাতদিন বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। রিজেন্ট বোর্ডের এক সভায় শিক্ষকদের মূল বেতনের ২৫ শতাংশ হারে প্রণোদনা হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু দেশের স্বার্থে শিক্ষকরা এ প্রণোদনা গ্রহণ করছেন না। তবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন।

যবিপ্রবির জেনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদ ইত্তেফাককে বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ছোট বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ব্যয়ের এ দায়ভার বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আমরা এজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আর্থিক সহযোগিতা কামনা করেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সদুত্তর পাইনি।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রফেসর ড. মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরার বক্তব্য জানতে মোবাইলে কল দিয়ে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মেসেজ দিলেও তিনি উত্তর দেননি।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট অনুজীব বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেনের ব্যক্তিগত আগ্রহে এক বছর আগে ১৭ এপ্রিল ২০২০ দেশে প্রথমবারের মতো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়।