রমজান মাস এলে বাঙালি মুসলমান সমাজে একটি প্রথা দেখা যায় যে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ইফতারি সামগ্রী পাঠানো। জিলাপি, খেজুর, নিমকি—এই তিনটি। গরিব ও নিম্নবিত্তরা মোটামুটি এই তিন ধরনের খাবার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে থাকে। তবে মধ্যবিত্ত হলে মিষ্টি, ছোলা ভাজা, পিঁয়াজুও সঙ্গে দেয়। আর ধনীরা মৌসুমি ফলসহ অন্যান্য ইফতার সামগ্রী পাঠিয়ে থাকে। মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে ইফতারি পাঠানো বড়লোকের জন্য কোনো সমস্যা নয়, বরং গর্বের বিষয়। তবে গরিব, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর একধরনের জুলুম। গ্রামে প্রতি বছর রমজান মাস এলেই এই দৃশ্য চোখে পড়ে যে—মেয়ের বাড়িতে ইফতার সামগ্রী না পাঠাতে পারায় মেয়ে শ্বশুরবাড়ির খোঁটা শুনে মা-বাবাকে বলায় মা-বাবা কাঁদেন। গ্রামের অবস্থাসম্পন্ন লোকের কাছ থেকে ঋণ করে হলেও মেয়ের বাড়ি ইফতার সামগ্রী পাঠাতে বাধ্য হন তাঁরা। এছাড়াও কোনো কোনো অঞ্চলে প্রথা হয়ে গিয়েছে যে প্রথম রমজানে ইফতার করা হবে শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঠানো ইফতার সামগ্রী দিয়ে; অন্যথায় স্বামীরবাড়ির অমঙ্গল হবে। ইফতার সামগ্রী বাবার বাড়ি থেকে না পাঠালে মেয়েকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়, যা হওয়া উচিত নয়। আসুন শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতার সামগ্রী আসা বন্ধ করে সমাজ থেকে একটি কুসংস্কার দূর করি।
হামিদা আব্বাসী
শিক্ষার্থী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
