নাজিম উদ্দীনের নাম আজও মুছতে পারল না ঈশ্বরদীর সেই স্কুলটি

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:৪৩

 

ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা

চলতি বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হলো। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছরেও পাল্টানো হলো না ইশ্বরদীতে অবস্থিত বাংলাদেশ রেলওয়ে সরকারি নাজিম উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম। অথচ এই খাজা নাজিম উদ্দীন ছিলেন বাংলা ভাষার প্রবল বিরোধী। ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের অধিবেশনে পূর্ব বাংলার তদানিন্তন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দীন বাংলা ভাষার বিরোধিতা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে তিনি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সুরে সুর মিলিয়ে পুনরায় ঘোষণা দেন, ‘একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’। ঈশ্বরদীতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তাই বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘নাজিম উদ্দীন’ উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম পাল্টানোর জন্য বিভিন্ন সময়ে দাবি-দাওয়া জানিয়েছে। এব্যাপারে পশ্চিমাঞ্চল রেলওেয়ের পাকশী বিভাগীয় অফিসে কয়েকদফা স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। গত বছরের ৯ ডিসেম্বর ঈশ্বরদীর ছাত্রলীগ স্কুলের নাম পরিবর্তনের জন্য বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। এক পর্যায়ে তারা স্কুলের প্রধান ফটক থেকে ‘নাজিম উদ্দীন’ নামটি কালো কালি দিয়ে মুছে দেয়। কিন্তু এতে কাজের কাজ কিছু হয়নি, শেষ পর্যন্ত নামটি থেকেই যায়।

এসব খবর দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিছুটা নড়েচড়ে বসে। এ বিষয়ে একটি কমিটিও গঠন করা হয়। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছাড়াও তত্কালীন উপজেলা চেয়ারম্যান (বর্তমানে জাতীয় সংসদ সদস্য) বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস এই তদন্ত কমিটির সদস্য। কিন্তু সেই কমিটির প্রতিবেদন এখনও আলোর মুখ দেখেনি। তাই ঈশ্বরদীবাসী ‘নাজিম উদ্দীন’- এর কালো ছায়া থেকে আজও মুক্ত হতে পারেনি ।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক খন্দকার আব্দুর রহমান জানান, প্রায় এক বছর আগে গঠিত তদন্ত কমিটির কাছে এই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করার জন্য সুপারিশমালা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান বিশ্বাস জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই স্কুলের নাম পরিবর্তন করার জন্য আমি এই এলাকার এমপি হিসেবে রেলওয়ে মন্ত্রীকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছি।

ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিএম ইমরুল কায়েস বলেন, বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থানকারী খাজা নাজিম উদ্দীনের নামে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলের নাম বদলানোর জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সুপারিশপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম নাম পরিবর্তন অবশ্যই হবে জানিয়ে বলেন, প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রেলওয়ের মহাপরিচালক পরিবর্তন হওয়ায় এই সংক্রান্ত আলোচনা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে  দ্রতই স্কুলটির নাম পরিবর্তন করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।