মুরাদনগর (কুমিল্লা) সংবাদদাতা
নির্বাচন ঘিরে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে জমে উঠছে রাজনীতির মাঠ। এ আসনে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার দলীয় মনোনয়ন কিনেছেন। এদিকে তার ছেলে কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সচিব ড. অহসানুল আলম সরকার কিশোরও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়েছেন। অপরদিকে একই আসনে বিএনপি থেকে থেকে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও তার স্ত্রী বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. শাহিদা রফিক। মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাপ-বেটা এবং স্বামী-স্ত্রী।
আহসানুল আলম সরকার কিশোর বলেন, বাবা মনোনয়ন পেলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো। কোনো কারণে যদি তিনি নির্বাচন না করেন সেক্ষেত্রে মনোনয়নের ব্যাপারে কঠোর থাকবো। প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই আমাদের কাছে চূড়ান্ত।
ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, আমি অনেক আগে থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৯১ ও ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। ওই সময় থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও বাড়িয়েছি। তাই আশা করছি এবার মনোনয়ন পাবো। স্ত্রীও যদি দল থেকে মনোনয়ন পান আমার বিশ্বাস, নিশ্চিতভাবে বিজয় আনতে পারবো।
তবে ভিন্নমত পোষণ করে আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, তরুণদের ওপর আস্থা রেখে প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে অথবা আমার ছেলেকে সুযোগ দেন, তবে বিজয় উপহার দিতে পারবো।
নিজ নিজ দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী বাবা-ছেলে, স্বামী-স্ত্রী ওরা চারজনই।
এ আসনে আওয়ামী লীগের ১৫ জন ও বিএনপি’র ছয়জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
আওয়ামী লীগের অন্যান্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন— বর্তমান স্বতন্ত্র এমপি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন এফসিএ, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হানিফ সরকার, ম. রুহল আমিন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-সম্পাদক আ.খ.ম গিয়াস উদ্দিন, মুরাদনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম খসরু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ আহাম্মদ হোসেন আউয়াল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য সচিব ড. এহসানুল আলম সরকার কিশোর, উপজেলা ভাইস- চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সফিকুল ইসলামের ছেলে আবু কাওছার সরকার মাসুদ, উপজেলার শ্রীকাইল ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অলিউল্লাহ পলাশ, আবুল কালাম ও জাহাঙ্গীর আলম।
অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ছয়জন। তারা হলেন— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, তার স্ত্রী ড. শাহিদা রফিক, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ঢাকা দক্ষিণ শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক কাজী আমীর খসরু, অ্যাডভোকেট নূর এ আলম ও ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
