নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে রাতে ককটেল হামলা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ২২:৫৫

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বড় রাজাপুরে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ থানাপুলিশ।

জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে দুর্বৃত্তরা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় বাড়ির লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোম্পানীগঞ্জে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। র্যাব-১১ কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট বাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল দিচ্ছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর আগে গত শুক্রবার বিকালে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আব্দুল কাদের মির্জা তার অনুসারী স্বপন মাহমুদের ফেসবুক থেকে লাইভে এসে তার ভাই ওবায়দুল কাদের ও তার স্ত্রী সম্পর্কে নানা ধরনের মন্তব্য করেন।

ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় হাসান ইমাম রাসেল (৪৫), বসুরহাট সরকারি মুজিব কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন রিয়াদ (২৭) ও বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ওহিদ উল্যাহ দিদারকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাড়িতে থাকা সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন বলেন, মাদকসম্রাট হাসান ইমাম রাসেলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা শুক্রবার রাতে তাদের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি জাহিদুল হক রনি জানান, গ্রেফতার তিন জনের মধ্যে হাসান ইমাম রাসেল ও ওহিদ উল্যাহ দিদার ১৫ এপ্রিল বসুরহাট পৌরসভায় আক্রমণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। এর আগেও তাদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরণসহ দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে।

লাইভে এসে কাদের মির্জা আরো বলেন—দুর্নীতিবাজ ডিসি, এসপি, এএসপি সার্কেল, ইউএনও, ওসি, আমাকে পিটাবেন, মেরে ফেলবেন, ফেলুন। মনে রাখবেন এ কোম্পানীগঞ্জের মাটি থেকে এক দিন আপনার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে। কোম্পানীগঞ্জের মাটিতে আপনি (ওবায়দুল কাদের) আসতে পারবেন না। প্রয়োজনে আমার রক্ত ঝরবে, আমার পরিবারের সদস্যদের রক্ত ঝরবে, আপনাকে কোম্পানীগঞ্জের মাটিতে আসতে দেব না।

কাদের মির্জা তার ভাই ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, পৌরসভায় কোনো মানুষকে উঠতে দিচ্ছে না। সবাইকে পুলিশ বাধা দিচ্ছে, এটা কার নির্দেশে হচ্ছে—এ বসুরহাট পৌরসভার মানুষ জানতে চায়। ওবায়দুল কাদের আমার ছেলেদের কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না। বরং আমার বিরুদ্ধে পুলিশ ও সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়েছে। তার দুর্নীতিবাজ স্ত্রী ইসরাতুন্নেছা কাদেরকে বাঁচাতে তিনি ব্যস্ত। তিনি আরো বলেন, তোমার পুলিশ, প্রশাসন সামলাও ওবায়দুল কাদের। বলে দিচ্ছি, তুমি জেলে দিবে, আমাকে হত্যা করবে, তোমার আমরা পরোয়া করি না। আমি তোমার খাইও না, পরিও না। তোমার (ওবায়দুল কাদের) কারণে আমার একটি ভাই গলায় ফাঁস দিয়ে মারা গেছে। এখন তোমার স্ত্রী হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক।