নির্বাচনের পরে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল। তবে সে ধারা বেশিদিন অব্যাহত থাকেনি। এখন একদিন শেয়ারবাজারের মূল্য সূচক বাড়ছে তো অন্যদিন কমছে। শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারের দর সংশোধনের কারণেই পড়ছে সূচক।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং শেয়ারবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, দর সংশোধনের কারণেই মূলত মূল্যসূচক কমেছে। বীমা খাত হঠাত্ করে চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল। এর পাশাপাশি ব্যাংকের অবস্থাও ভালো থাকায় কয়েকদিন শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এখন ব্যাংক ও বীমা খাতে দরপতনে বাজারের মূল্যসূচক কমেছে। এটাকে দর সংশোধন বলেই মনে করছেন তিনি।
শেয়ারবাজার দ্রুত ওঠা-নামার বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান বলেন, এখনো আমাদের বাজারের সাইজ ছোট। ফলে অল্প ওঠা-নামা করলেই তা চোখে পড়ে। বাজারের সাইজ বড় হলে, এমনটা মনে হবে না।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে গতকাল সোমবার দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান মূল্যসূচকের বড় উত্থানে লেনদেন শুরু হয়। অবশ্য লেনদেন শেষ হওয়া পর্যন্ত উল্টো চিত্র দেখা গেছে। ব্যাংক ও বীমা খাতে সবচেয়ে বেশি মূল্যপতন হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ব্যাংক ও বীমা খাতের শেয়ারগুলোরই সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দিনের শুরুতে বেশির ভাগ কোম্পানির দাম বাড়ে। এমনকি ওই সময় দাম বেড়ে তিনটি বীমা কোম্পানির বিক্রেতাশূন্যও হয়ে পড়ে। ব্যাংক-বীমাসহ বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার কারণে বেলা ১১টা ১১ মিনিটে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে যায়। পরে ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির শেয়ারের দরপতন শুরু হয়। এরপর অন্যান্য কোম্পানির শেয়ারেরও দরপতন হয়। তবে বড় মূলধনের কোম্পানি এবং ইসলামি ঘরাণার প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম তুলনামূলকভাবে কম পতন হয়েছে। ফলে এ দু’টি মূল্যসূচক শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখীই থেকে গেছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যাংক ও বীমা কোম্পানির শেয়ারের পতনের ধাক্কায় দিনের লেনদেন শেষে ২১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। বিপরীতে দাম বেড়েছে মাত্র ১০৫টির। আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির দাম। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৯০৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইর অপর দুটি মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৪৬ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৩২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
প্রধান মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। এ বাজারে দিনভর লেনদেন হয়েছে এক হাজার ৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ১৯৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১৮৯ কোটি ৩ লাখ টাকা।
টাকার অঙ্কে এদিন ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার। কোম্পানিটির গতকাল মোট ৪৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্রামীণফোনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকার। ৩৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স। লেনদেনে এরপর ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ইস্টার্ন হাউজিং, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, ইউনাইটেড ফইন্যান্স, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স এবং ইনটেক লিমিটেড।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স ৪০ পয়েন্ট কমে ১০ হাজার ৯৬৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকার শেয়ার। লেনদেন হওয়া ২৭৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মধ্যে ৮৭টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৭০টির। আর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২২টির।
