লুইস ঝড়ে উড়ে গেল খুলনা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৭

২০১৩ সালে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স ২১৭ রানের ইনিংস খেলেছিলো। এই এতো বছর ধরে সেটাই টিকে ছিলো বিপিএলের সর্বোচ্চ ইনিংস হিসেবে। এই তিন দিন আগে রংপুর রাইডার্স ২৩৯ রান করে টপকে গেলো সেই স্কোর। গতকাল আরো একবার রেকর্ডটা নতুন করে লেখার তোড়জোড় শুরু করেছিলো কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। শেষ দুই বলে মাত্র ১টি রান হওয়ায় রেকর্ড হলো না। তবে বিপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩৭ রান করে ফেললো কুমিল্লা।

এভিন লুইসের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে করা এই বিশাল স্কোরের কাছে নুইয়ে পড়লো খুলনা টাইটান্স। কুমিল্লা পেলো ৮০ রানের বিশাল জয়। আর এই জয়ে ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে যুগ্মভাবে আপাতত শীর্ষে আছে কুমিল্লা।

কুমিল্লার এবারের আসরে বড় দুই বিদেশি ভরসা ছিলেন এভিন লুইস ও স্টিভেন স্মিথ। এর মধ্যে অধিনায়ক স্মিথ কনুইয়ের চোটে দেশে ফিরে গেলেন। আর লুইসও হ্যামাস্ট্রিং চোটে পড়ে ৪ ম্যাচের পর থেকে আর খেলতে পারছিলেন না। অবশেষে চট্টগ্রাম পর্বে লুইস সুস্থ হয়ে উঠলেও এখানে প্রথম ম্যাচে ঝুঁকি নেয়নি দল। অবশেষে গতকাল মাঠে নামলেন তিনি। আর মাঠে নেমেই বিপিএল ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিলেন।

কুমিল্লাকে ভালো শুরু এনে দেন লুইসের সাথে তামিম ইকবাল। যদিও তামিম একটু স্বভাববিরুদ্ধভাবে ধীরগতির ছিলেন। ২৯ বলে ২৫ রানের ইনিংস খেলে তামিম যখন আউট হলেন, তখন দলের রান ৫৮। ওই একই স্কোরে এনামুল হক বিজয় ফিরে এলেন নিজের খেলা প্রথম বলেই। পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে কুমিল্লাকে নিয়ন্ত্রণের একটা সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু ইমরুল কায়েসকে নিয়ে লুইস পুরো দৃশ্যপট পাল্টে দেন।

ইমরুল ও লুইস ৯৭ রানের একটু জুটি করেন। ২১ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৯ রান করে ইমরুল ফিরে আসেন। এরপর ৪ বলে ১১ রান করে ফেরেন থিসারা পেরেরা। আর শহীদ আফ্রিদি করেন মাত্র ১ রান।

লুইসের সাথে এরপর দারুণ সঙ্গ দেন সামসুর রহমান শুভ। ৭ নম্বরে নামা এই প্রকৃত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ১৫ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

আর লুইস এবার বিপিএলের দ্রুততম সেঞ্চুরিটা করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত তার রান ছিলো ৪৯ বলে ১০টি ছক্কা ও ৫টি চারে ১০৯। তিনি এর আগে ২০১৫ সালে বরিশালের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন।

এই বিশাল রান করতে গিয়ে শুরুটা ভালোই করেছিলো খুলনা। ৫.৩ ওভারে বিনা উইকেটে ৫৫ রান তুলে ফেলেছিলো তারা। জুনায়েদ সিদ্দিকী ২৪ বলে করেন ২৭ রান। এরপর কয়েকজন ব্যাটসম্যান শুরু পেলেও কেউ আর ব্রেন্ডন টেলরকে সঙ্গ দিতে পারেননি। টেলর ৩৩ বলে ৫০ রান করে শহীদ আফ্রিদির বলে তার হাতেই ক্যাচ তুলে দেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২২ রান করেন ক্রেইগ ব্রাথওয়াইট।

আর কুমিল্লার লেজটা ছেটে দেন ওয়াহাব রিয়াজ। তিনি শেষ তিন উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকও করে ফেলেন। ১৪ রানে ওয়াহাব নেন ৩ উইকেট। অন্যদিকে ২৭ রানে ৩ উইকেট নেন শহীদ আফ্রিদি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স: ২০ ওভারে ২৩৭/৫ (লুইস ১০৯*, ইমরুল ৩৯, সামসুর ২৮*, তামিম ২৫; মাহমুদউল্লাহ ২/৩২, ব্রাথওয়াইট ২/৪২)।

খুলনা টাইটান্স: ১৮.৫ ওভারে ১৫৭/১০ (টেলর ৫০, জুনায়েদ ২৭, ব্রাথওয়াইট ২২; ওয়াহাব ৩/১৪, আফ্রিদি ৩/২৭)।

ফল: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ৮০ রানে জয়ী

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: এভিন লুইস। 

বিপিএলের সেরা পাঁচ

রান            দল                             প্রতিপক্ষ                   সাল

২৩৯/৪       রংপুর রাইডার্স              চিটাগং ভাইকিংস        ২০১৯

২৩৭/৫    কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস                       খুলনা টাইটানস      ২০১৯

২১৭/৪       ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর            রংপুর রাইডার্স          ২০১৩

২১৪/৪       চিটাগং ভাইকিংস            খুলনা টাইটানস          ২০১৯

২১৩/৬       দুরন্ত রাজশাহী              বরিশাল বার্নার্স          ২০১৩