আরো একবার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখালো ভারতীয় দল। ফলাফল, বিরাট কোহলির দলের আরেকটি সহজ জয়। আর মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সাত উইকেটের এই বড় জয়ে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ জিতে নিল ভারত। দলকে একটা ভাল অবস্থানে রেখেই সিরিজের বাকিটা সময় বিশ্রামে চলে যাচ্ছেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি।
সর্বশেষ ২০০৯ সালে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ভারত। সেবার অধিনায়ক ছিলেন ধোনি। এবার আবারো সেই ধোনির কীর্তিকে ছুলেন বিরাট। বিরাট অবশ্য আরেকটি রেকর্ড ছুয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তিনি টপকে গেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভিভ রিচার্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকার হ্যান্সি ক্রনিয়েকে। ৬৩টি ওয়ানডে অধিনায়কত্ব করার পর এই দু’জনেরই জয়ের সংখ্যা ছিল ৪৬টি। আর ৬৩টি ওয়ানডে শেষে বিরাট জয় পেলেন ৪৭ টিতে। যদিও, এই তালিকায় সবার ওপর আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড ও অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিংয়ের নাম। অধিনায়ক হিসেবে ৬৩টি ওয়ানডে শেষে দু’জনই ৫০টি করে ম্যাচ জয় পেয়েছিলেন।
বৃথা গেছে রস টেলরের পরিশ্রমী ৯৩ রানের ইনিংস। চার ভারতীয় বোলার কমপক্ষে দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন। এর সুবাদে নিউজিল্যান্ড অলআউট হওয়ার আগে ২৪৩ রানের বেশি করতে পারেনি। আর এই সহজ লক্ষ্যটা আরো সহজ হয়ে যায় রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির ১১৩ রানের জুটিতে। আম্বাতি রাইডু আর দিনেশ কার্তিক কেবল শেষে নতুন করে কোনো বিপদ নামতে না দিয়েই প্রত্যাশিত এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন। সাত ওভার বাকি থাকতেই চলে আসে জয়। আগামী বৃহস্পতিবার, ৩১ জানুয়ারি হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডে ম্যাচ।
বোলিংয়ে ভারতের নায়ক আবারো পেসার মোহাম্মদ শামি। তিনি নিয়েছেন তিনটি উইকেট। এই শামির হাতেই উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরস্কার। অল্প ক’দিনের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা হার্দি পান্ডিয়াও নিজের ফর্মে কোনো মরচে পড়তে দেননি। তিনিও নিয়েছেন দু’টি উইকেট। এই দু’জনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ভুবনেশ্বর কুমার ও যুজবেন্দ্র চাহাল নিয়েছেন আরো দু’টি করে উইকেট।
টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড মাত্র ৫৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। সেখান থেকে জুটি বাঁধেন রস টেলর ও টম ল্যাথাম। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দু’জন মিলে যোগ করেন ১১৯ রান। ল্যাথাম ৫১ রান করেন। এখান থেকে দলের স্কোরটা আরো বড় হওয়া উচিত ছিল। হয়নি বাকি ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। এক ওভার বাকি থাকতেই অল আউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
২৪৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ভারতের সব ব্যাটসম্যানই কম বেশি রান পেয়েছেন। রোহিত-বিরাটের ম্যাচ জেতানো জুটির আগে শিখর ধাওয়ান ছয়টি চারের সৌজন্যে ২৭ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর রোহিত ও বিরাট আউট হন ষাটের ঘরে গিয়ে। রোহিত করেন সর্বোচ্চ ৬২ রান। আর অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে ৬০ রান। ১৬৮ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতন হয়। বাকিটা সময় কোনো বিপদ আসতে দেননি আম্বাতি রাইডু ও ধোনির বদলি হিসেবে খেলতে নামা দিনেশ কার্তিক। রাইডু ৪০ এবং কার্তিক ৩৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন। দু’টি উইকেট পেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্ট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ড: ৪৯ ওভারে ২৪৩ (টেলর ৯৩, ল্যাথাম ৫১, শামি ৩/৪১)
ভারত: ৪৩ ওভারে ২৪৫/৩ (রোহিত ৬২, কোহলি ৬০, রাইডু ৪০*, বোল্ট ২/৪০)
ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ভারত ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে
ম্যাচ সেরা: মোহাম্মদ শামি
