করোনা পরিস্থিতির অবনতি টিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা!

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২১, ২১:০৫

বিশ্বে মৃত্যু ছাড়িয়েছে ৩০ লাখ

ইত্তেফাক ডেস্ক

 

বিশ্বে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) মৃত্যু ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী আক্রান্তও ১৪ কোটি পেরিয়ে গেছে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৩ কোটি ১৫ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। আর মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি মানুষের। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে শনিবার পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ৪৫ লাখ ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। যদিও মৃত্যুর সংখ্যায় এখনো চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ভারতে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ। 

ব্রাজিলে তৃতীয় সর্বোচ্চ ১ কোটি ৩৮ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও মৃত্যুর দিক থেকে দেশটি দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ব্রাজিলে ৩ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা বিচারে মেক্সিকো রয়েছে তৃতীয় স্থানে। দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষের। সব মিলিয়ে করোনা মহামারির ১৬ মাসের মাথায় বিশ্বে মৃত্যু ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে। যা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, কিংবা ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দার সংখ্যার সমান।

ইন্ডিয়াটিভি নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, করোনা মহামারিতে বিশ্বে মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হতে পারে। কারণ অনেক দেশ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের শুরুতে মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করেনি।

গত জানুয়ারিতে যখন বিশ্বে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়াল, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে টিকা দেওয়া শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের ১৯০টির বেশি দেশে করোনার টিকা প্রদান চলছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন টিকা প্রদানের পর কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার তোড়জোড় করলেও বেশির ভাগ গরিব দেশ এমনকি কিছু ধনী দেশেও করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। তারা সংক্রমণ ঠেকাতে আবারও লকডাউন, কারফিউ দিচ্ছে। প্রায় দিনই ব্রাজিল, ভারত ও ফ্রান্সে সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড হচ্ছে।

গত শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে জানায়, বিশ্বে করোনা সংক্রমণ সর্বোচ্চ সংখ্যার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সংস্থাটির মহাপরিচালক ডা. টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসুস সতর্ক করে বলেন, শনাক্ত এবং মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। বিশ্বব্যাপী প্রতি সপ্তাহে সংক্রমণ দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। বিশ্বে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। আর সংক্রমণ ঠেকেছে গড়ে প্রায় ৭০ হাজারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অন্যতম কর্মকর্তা মারিয়া ভ্যান কেরখোভে বলেন, মহামারির ১৬ মাস পরে এসে এই পরিস্থিতি আমরা দেখতে চাইনি, কারণ ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণের উপায় আগেই জানানো হয়েছে।

ব্রাজিলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহেই দেশটিতে এক-চতুর্থাংশের বেশি মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালগুলো রোগীদের জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ভারতে গতকাল ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। রোগীর চাপ এত বেশি যে অনেক হাসপাতালে একই বেডে দুই জন রোগীকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে।

করোনার ভ্যাকসিনও অনেক দেশে অপ্রতুল। অনেক গরিব দেশকে চীন ও রাশিয়ার টিকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এসব টিকার কার্যকারিতা ফাইজার, মডার্না এবং অক্সফোর্ডের টিকার চেয়ে অনেক কম বলে প্রমাণিত হয়েছে। অক্সফোর্ডের টিকা প্রয়োগের পর রক্ত জমাট বাঁধার আশঙ্কায় অনেক দেশে এই টিকার প্রয়োগ বন্ধ করা হয়। কিন্তু অনেক দেশের ক্ষেত্রে এর বিকল্প টিকা প্রয়োগের সক্ষমতা নেই।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টিকা উত্পাদিত হয় ভারতে। সেই দেশেই এখন টিকার সংকট। সব মিলিয়ে টিকা আসার পর করোনা সংক্রমণ কমবে বলে যে আশা করা হচ্ছিল বর্তমান সংকট ও পরিস্থিতির অবনতিতে তা ফিকে হয়ে আসছে। দিল্লির স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশ বলেছেন, করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ কিন্তু আতঙ্কিত হলে চলবে না। আগের মতো এবারও করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা জয়ী হব।