Åএফবিসিসিআই এনবিআরের পরামর্শক কমিটির সভা
Åসব ধরনের অগ্রিম কর প্রত্যাহার, লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করার প্রস্তাব এফবিসিসিআইয়ের
ইত্তেফাক রিপোর্ট
গত বছর শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ব্যবসায়ের ক্ষতির রেশ কাটিয়ে উঠতে না উঠতে নতুন করে দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে সরকারের দেওয়া দেশব্যাপী লকডাউনে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। এমন পরিস্থিতিতে আগামী জুনের শুরুতে পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বাস্তবতার আলোকে ব্যবসাবান্ধব বাজেট চেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। গতকাল রবিবার এ দাবি জানায় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, চলমান করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বাস্তবতার আলোকে এবং গত বাজেটের ধারাবাহিকতায় রাজস্ব ও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণীত হবে বলে আশা করি।
অতীতের ধারাবাহিকতায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও এফবিসিসিআই যৌথভাবে ৪১তম পরামর্শক কমিটির ঐ সভা আয়োজন করে। এতে ব্যবসায়ী নেতারা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। করোনা ভাইরাস ও লকডাউন পরিস্থিতিতে এবার ভার্চুয়ালি এ সভার আয়োজন করা হয়। এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
সভায় এফবিসিসিআই সভাপতি করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আয়কর, ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ও শুল্ক বিষয়ে বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবে তিনি অগ্রিম আয়কর (এআইটি), আগাম করসহ (অ্যাডভান্স ট্যাক্স বা এটি) সব ধরনের অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ে লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে প্রতিটি ক্ষেত্রে চালানভিত্তিক লেনদেন প্রক্রিয়া চালু করার প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, এটি কার্যকর করা হলে সরকারে রাজস্ব বাড়বে এবং তা জিডিপিতে করের অবদান বাড়াতে সহায়ক হবে।
ব্যবসায়ীদের পণ্যের মূল্য ঘোষণায় (সেল্ফ ডিক্লারেশন) তিন বার পর্যন্ত সুযোগ দেওয়ার পরও কেউ মিথ্যা ঘোষণা দিলে সেক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এতে তৃণমূল পর্যায়ে করের আওতা বাড়বে। বর্তমানে লাভ লোকসান নির্বিশেষে মোট প্রাপ্তি ৩ কোটি টাকার ওপরে ০.৫ শতাংশ করের বিধান বহাল রয়েছে। ৩ কোটির স্থলে তা ৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। এছাড়া ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর বা এ জাতীয় ব্যবসায়ীদের প্রকৃত মূল্য সংযোজনের ওপর ভিত্তি করে ভ্যাট আরোপ, করপোরেট কর ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে স্বয়ংক্রিয় ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় নিয়ে আসাসহ বেশকিছু প্রস্তাব দেওয়া হয় এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে।
এফবিসিসিআই সভাপতি করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের দেওয়া সহযোগিতার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করে গতবারের মত এবারো ব্যবসাবান্ধব বাজেট করার ওপর জোর দেন।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম হিসেবে স্বচ্ছতা আনতে আইসিএবির সঙ্গে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা অনিয়ম করতে পারবে না। সঠিক হিসাব হলে রাজস্ব আদায় বাড়বে, ফলে ভবিষ্যতে কর্পোরেট করহার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এছাড়া স্বচ্ছতার লক্ষ্যে এনবিআর অটোমেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহসভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান, বিটিএমএর সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, বেসিসের সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার প্রমুখ।
