পঞ্চগড় প্রতিনিধি
করোনাকালে সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য ও পার্শেল মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে সবজি ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে। গতকাল সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশনে জেলা প্রশাসক ড. সাবিনা ইয়াসমিন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সবজি ট্রেনের উদ্বোধন করেন।
পঞ্চগড়ে উত্পাদিত শসা, টম্যাটো, বেগুন, মরিচ, লাউ, শিম, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন শাকসবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে সপ্তাহে শনিবার, সোমবার ও বুধবার একটি পার্শেল ট্রেন পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে যাবে। আর রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে একটি করে পার্শেল ট্রেন পঞ্চগড় আসবে। বিশেষ পার্শেল ট্রেনে কৃষিজাত পণ্য যেমন, শাক-সবজি, দেশীয় ফলমূলসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে মূল ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ রেয়াতি ও অন্যান্য সব ধরনের চার্জ রহিত থাকবে।
লকডাউনে কৃষক যাতে কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন করতে পারেন, সে জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ পার্শ্বেল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। রেলওয়ে অতীতে বিভিন্ন সময়ে ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন, ক্যাটল ট্রেনসহ পার্শেল ট্রেন পরিচালনা করেছে। রেলওয়ে বর্তমানে তেল, সারসহ অন্যান্য মালামাল পরিবহন করছে। কৃষিপণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে সারা দেশে আটটি পার্শেল ট্রেন চলাচল করছে। পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ট্রেনে ঈশ্বরদী স্টেশনে সংযোজন-বিয়োজন করতে পারবে। পণ্য যে কোনো স্টেশনে নামানো ও ওঠানো যাবে।
সবজি ট্রেন উদ্বোধনের সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট, রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ হোসেন ও সবজি ব্যবসায়ীরা। পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মাসুদ পারভেজ জানান, পার্শেল এই ট্রেনে যেকোনো স্টেশনে পণ্য লোড ও আনলোড (ওঠানামা) করা যাবে। মালামালের সঙ্গে ব্যবসায়ীরাও যেতে পারবেন।
রেলওয়ের লালমনিরহাট ডিভিশনের ব্যবস্থাপক শাহ সুফী নূর মোহাম্মদ জানান, করোনার মধ্যে জীবন ও জীবিকা চালু রাখতে এবং লকডাউনে কৃষক যাতে কৃষিপণ্য সহজে পরিবহন করতে পারে সে জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে বিশেষ পার্শেল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
