নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে প্রার্থিতা উন্মুক্ত হতে পারে

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:২৬

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া চলছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে। প্রতি উপজেলার চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে তিনজন করে প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠাচ্ছে জেলা কমিটিগুলো। দেশের বিভিন্ন উপজেলায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি চেয়ারম্যান পদের বিপরীতে গড়ে ৭-৮ জন করে প্রার্থী নৌকায় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করেছেন। দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে আওয়ামী লীগ। এককভাবে অংশ নেয়ার কথা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ইতিমধ্যে বিএনপি,ঐক্যফ্রন্ট,২০ দলীয় জোট,ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। ৮ টি বাম দলের সমন্বয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোটও নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে। শিগগির তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকারের এ গুরুত্বপুর্ন নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দিতাপুর্ন করতে নানা ধরনের চিন্তা-ভাবনা চলছে । উপজেলা নির্বাচন যাতে একতরফা না হয়ে যায়, সে কৌশল নিয়ে ভাবছে আওয়ামী লীগ। দলের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়,নির্বাচনে বেশি প্রার্থীর অংশগ্রহণ ও প্রতিদ্বন্দিতামূলক করার জন্য প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। দলের একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব পরিত্যাগ করা হতে পারে। কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে নিরুতসাহিত করা হবে না। ১৪ দলের নিবন্ধিত দলগুলো আলাদা আলাদা ভাবে নির্বাচন করবে। এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি আলাদাভাবে নির্বাচন করতে প্রার্থী ঘোষনা করছে বিভিন্ন জায়গায়। বিএনপির যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চাইবেন তাদেরকে উত্সাহিত করা হবে।

আগের স্থানীয় নির্বাচনগুলো পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়,আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অনেক স্থানেই দলের প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ ঘটেছে। এতে সেসব এলাকায় দলের মধ্যে বিভেদ-দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে দেখা দেয়। তবে এবার নির্বাচনের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। বিএনপিসহ ২০ দল বর্জন করার কারনে শক্ত কোন প্রতিপক্ষ থাকবে না। নৌকার প্রতিপক্ষে প্রার্থী যদি আওয়ামী লীগের থাকে সেক্ষেত্রে যিনি বিজয়ী হবেন তিনি ক্ষমতাসীন দলেরই।

এদিকে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ছাড়া ১৪ দলের শরিক দলগুলোর মধ্যে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো তত্পরতা নেই। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করার ঘোষনা এবং দলের কেউ প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে এই দলের কেউ আর উত্সাহ দেখাচ্ছে না। অনেকটা নিরুত্তাপ পরিবেশ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য যে,৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুই মাস বিরতি দিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু করতে যাচ্ছে ইসি। পাঁচ ধাপে ৪৯২টির মধ্যে ৪৫০টির বেশি উপজেলা পরিষদে নির্বাচনের আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে প্রথম ধাপে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কয়েকটি জেলার ৬৯টি উপজেলায় নির্বাচন হবে ৮ অথবা মার্চ ।তফসিল দেয়া হবে ৩ ফেব্রুয়ারি।