ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। মহড়ায় প্রেসিডেন্ট মাদুরো সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ‘ক্যু করছে না’ এমন অঙ্গীকার আদায় করে নেন। তিনি দেশটিতে সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া আয়োজনের ঘোষণা দেন। বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো মাদুরোর বিরুদ্ধে আরো দু’টি বড় সমাবেশ করার কথা জানিয়েছেন। এদিকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ৭০ জন বুদ্ধিজীবী ভেনিজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে বিভক্ত করছে। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের
দৃঢ় প্রতিজ্ঞ মাদুরো
স্থানীয় সময় রবিবার প্রেসিডেন্ট মাদুরো একটি সামরিক মহড়ায় অংশ নেন। তিনি একটি আর্টিলারি ব্যারেজও পরিদর্শন করেন। এরপর সৈন্যদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। মাদুরো সৈন্যদের উদ্দেশে বলেন, সাম্রাজ্যবাদী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে কী আমাদের সৈন্যরা আমার বিরুদ্ধে ক্যু করছেন? জবাবে সৈন্যরা চিত্কার করে বলেন, না, আমাদের কমান্ডার-ইন-চিফ। দেশকে রক্ষায় যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট মাদুরো জানান, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে যা হবে ঐতিহাসিক। যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশ মাদুরোকে অবৈধ উল্লেখ করলেও সেনাবাহিনীর সমর্থনে মাদুরো ক্ষমতায় টিকে আছেন। তবে রাশিয়া, চীন ও তুরস্কসহ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ মাদুরোকে সমর্থন দিয়েছে।
ভেনিজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্গে আরিয়াজা এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, ভেনিজুয়েলা খুব ভালভাবেই অবগত আছে যে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারপরও আমরা পশ্চিমা সমর্থিত বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার এখন ‘ক্যু’ এর মূল নেতা, সার্কাসের পরিচালক বিশেষ করে মার্কিন সরকার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রতিনিধিদের ওপর নজর রাখছে। তিনি বলেন, বলিভারিয়ান গণতন্ত্রের জন্য ভেনিজুয়েলার মানুষের স্বীকৃতি ও সমর্থন থাকলেই হবে। তবে বিরোধীদের স্বীকৃতিদাতা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে রবিবার ভেনিজুয়েলার পোর্ট অব লা গুয়ারিয়াতে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছালেও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
বড় সমাবেশের প্রস্তুতি গুয়াইদোর
সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণ করে তার পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা ৩৫ বছর বয়সী গুয়াইদো। তার সমর্থকরা একটি প্রচারপত্র বিলি করছে যাতে বলা হচ্ছে, মাদুরোকে ত্যাগ করলে সৈন্যদের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হবে। তিনি ক্ষমতা গ্রহনে সেনাবাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন। গুয়াইদো জানিয়েছেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে বুধবার এবং শনিবার দুটি বড় সমাবেশ করবেন তার সমর্থকরা। তিনি বলেছেন, বুধবারের সমাবেশ হবে সেনাবাহিনীকে পাশে পাওয়ার জন্য। আর বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের চার দেশ যে আল্টিমেটাম দিয়েছিল তার সমর্থনে সমাবেশ হবে। মাদুরোকে যাতে স্বর্ণ উত্তোলনের সুযোগ না দেওয়া হয় সেই ব্যবস্থা নিতে ব্রিটেনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন গুয়াইদো।
৭০ বুদ্ধিজীবীর খোলা চিঠি
ভেনিজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধের আহবান জানিয়েছেন বিশ্বের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মার্কিন বুদ্ধিজীবী ও এমিরেটাস অধ্যাপক নোয়াম চোমস্কিসহ ৭০ জন বুদ্ধিজীবী। তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলাকে বিভক্ত করছে। একটি অনির্বাচিত সরকার সমর্থন দিয়ে তারা দেশটির আগের বিভক্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমর্থন ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি খারাপ করেছে, অপ্রত্যাশিতভাবে মানবিক দুর্যোগ, সহিংসতা ও অস্থিরতা তৈরি করছে। বিবৃতি দেওয়া অন্যদের মধ্যে আছেন, নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির প্রফেসর গ্রেগ গার্ডেন, ইউনিভার্সিটি অব সিডনির প্রফেসর সুজাতা ফার্নান্দেজ, লেখক, পরিচালক ও সংগীত শিল্পী বুটস রিলেসহ অনেকে।
যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি :মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন কূটনীতিক এবং বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে কোনো ধরনের হেনস্থা করা হলে কঠোর জবাব দেবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, কোনো ধরনের হেনস্থা হবে আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত।
ভেনিজুয়েলায় শান্তি চান পোপ :পোপ ফ্রান্সিস ভেনিজুয়েলায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। পানামা সফরে যাওয়ার আগে পোপ এমন আশা প্রকাশ করেন। গুয়াইদোকে সমর্থন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে কিছু জানাতে অস্বীকার করেন গুয়াইদো। এর আগে পোপ ভেনিজুয়েলায় সরকার ও বিরোধীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।
গুয়াইদোর আন্তর্জাতিক সমর্থন বেড়েছে :গুয়াইদোর আন্তর্জাতিক সমর্থন আরো বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং আরো ২০টি দেশ গুয়াইদোকে সমর্থন জানিয়েছে। এই দলে আছে অস্ট্রেলিয়া ও ইসরাইল। গতকাল দেশ দুটি বিরোধী নেতাকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানায়। গুয়াইদো দুই দেশের প্রতিই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও প্রেসিডেন্ট মাদুরো জানিয়েছেন, তিনি কারো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না। তবে মস্কো গুয়াইদোর সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করবে না বলে জানিয়েছে।
